ইন্দোনেশিয়ার নর্থ মালুকু প্রদেশের হালমাহেরা দ্বীপে অবস্থিত অন্যতম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি মাউন্ট দুকোনোতে এক ভয়াবহ অগ্নুৎপাতের ঘটনায় তিন পর্বতারোহীর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) স্থানীয় সময় সকালে আকস্মিক এই বিস্ফোরণে আগ্নেয়গিরিটি থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছাই ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। অগ্নুৎপাত এখনো চলছে।
নিহতদের মধ্যে দুজন সিঙ্গাপুরের পর্যটক এবং একজন স্থানীয় ইন্দোনেশীয় নারী বলে শনাক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি এবং রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার নেশায় তারা আগ্নেয়গিরিটির চূড়ার কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
শুক্রবার সকাল ৭টা ৪১ মিনিটে যখন বিস্ফোরণটি ঘটে, তখন অন্তত ২০ জনের একটি দল পাহাড়টিতে অবস্থান করছিল। আকস্মিক ছাইয়ের বৃষ্টি ও উত্তপ্ত বাতাসের কারণে তারা বিপদে পড়ে যান। খবর পেয়ে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ১৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে পারলেও ৩ জনকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এছাড়া ৫ জন গুরুতর দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। বর্তমানে আগ্নেয়গিরিটির আশপাশে ৪ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকা সাধারণের জন্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
মাউন্ট দুকোনো কেবল ইন্দোনেশিয়া নয়, বরং বিশ্বের অন্যতম ‘অস্থির’ ও সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে পরিচিত। এর অগ্নুৎপাতের ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং বৈচিত্র্যময়।
এই আগ্নেয়গিরিটির সবচাইতে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো—এর স্থায়িত্ব। ১৯৩৩ সাল থেকে এটি প্রায় নিরবচ্ছিন্নভাবে সক্রিয় রয়েছে। ছোট-বড় বিস্ফোরণ ও ছাই নির্গমন এখানে প্রায় প্রাত্যহিক ঘটনা।
মাউন্ট দুকোনোর ইতিহাসে সবচাইতে ভয়াবহ অগ্নুৎপাত রেকর্ড করা হয়েছিল ১৫৫০ সালে। সেই সময় বিশাল এলাকা লাভায় প্লাবিত হয়েছিল এবং ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছিল।
গত কয়েক দশকে, বিশেষ করে ২০০৩, ২০১২ এবং ২০১৩ সালে দুকোনো কয়েকবার বড় ধরনের ছাই ও ধোঁয়া উদগিরণ করেছে। এর ফলে পার্শ্ববর্তী তোবেলো শহরের বিমান চলাচল বারবার বিঘ্নিত হয়েছে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারে অবস্থিত হওয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় ১৩০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে, যার মধ্যে দুকোনোকে সবসময়ই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বা লেভেল-২ তালিকায় রাখা হয়।
ভূতত্ত্ববিদরা জানিয়েছেন, মাউন্ট দুকোনোর এবারের অগ্নুৎপাত সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী। আগ্নেয় ছাই ও গ্যাসের প্রভাবে আশপাশের পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ তোবেলো ও এর আশপাশের বাসিন্দাদের মাস্ক পরার এবং ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
সূত্র: সিএনএন ও বিবিসি