আল জাজিরার এক্সপ্লেইনার
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ওপর বেইজিংয়ের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে চীনে প্রবেশ করলেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ নিয়ে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক এক্সপ্লেইনারে বলা হয়েছে, মূলত কূটনৈতিক প্রটোকল এবং ভাষাগত কৌশলের মাধ্যমে এই জটিলতা কাটিয়েছে চীন। মার্কো রুবিও যখন মার্কিন সিনেটর ছিলেন, তখন তাকে দুই দফা নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল বেইজিং।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চীন সফরে তার সফরসঙ্গী হিসেবে বেইজিং যান রুবিও। তবে সফরের আগে চীনা নথিপত্রে তার নামের চীনা রূপ পরিবর্তন করা হয়।
চীনের রাজধানী বেইজিং থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার জানান, রুবিওর নাম সরকারি নথিতে ভিন্নভাবে লেখা হয়েছে, যা কার্যত একটি কূটনৈতিক কৌশল হিসেবে কাজ করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ রুবিওর পদবির প্রথম অংশের উচ্চারণে ভিন্ন একটি চীনা অক্ষর ব্যবহার করে তাকে ‘মার্কো লু’ হিসেবে উল্লেখ করে।
এই নাম পরিবর্তনের ফলে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না করেই রুবিওকে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি দিতে পেরেছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে সেই নিষেধাজ্ঞা আবার কার্যকর করা যেতে পারে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার কিছুদিন আগেই চীনা সরকার ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম রুবিওর নামের ভিন্ন বানান ব্যবহার শুরু করে।
চলতি বছরের মার্চে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইঙ্গিত দিয়েছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে বেইজিং সফরে গেলে রুবিওর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।
গত ১৬ মার্চ চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দায়িত্ব পালনকালে চীন সম্পর্কিত মার্কো রুবিওর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।’
কেন নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল?
ফ্লোরিডা থেকে মার্কিন সিনেটর থাকাকালে ২০২০ সালে দুইবার রুবিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় চীন।
তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ হংকং-এ চীনের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন রুবিও। হংকং তখন বেইজিংয়ের নিয়ন্ত্রণ থেকে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসনের দাবি তুলছিল।
এ ছাড়া চীনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনজিয়াংয়ে মুসলিম উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও তীব্রভাবে সমালোচনা করেন তিনি।
রুবিও উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট-এর অন্যতম সমর্থক ছিলেন। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে পাস হওয়া এই আইনে কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে বলা হয়, শিনজিয়াং থেকে আমদানি করা পণ্য জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত হয়নি।
সেসময় রুবিও বলেছিলেন, ‘অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে তাদের সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করেছে। যারা তা করেনি, তারা আর মার্কিন জনগণকে অজান্তে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অংশীদার করতে পারবে না।’