ভারতের মধ্যপ্রদেশ রাজ্যের ধর জেলায় বিতর্কিত ভোজশালা-কামাল মাওলা মসজিদ চত্বরটি মূলত দেবী সরস্বতীর একটি মন্দির, এমন এক রায় দিয়েছেন মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২০০৩ সালে ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের দেওয়া সেই আদেশটিও বাতিল করে দিয়েছেন আদালত, যার মাধ্যমে মুসলমান সম্প্রদায়কে ভোজশালা চত্বরে জুমার নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শুক্রবার (১৫ মে) ওই স্থান সম্পর্কে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ঐতিহাসিক সাহিত্য এবং স্থাপত্যশৈলী বিশ্লেষণ করে এটি প্রমাণিত, এই বিতর্কিত চত্বর পারমার রাজবংশের রাজা ভোজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল। এটি সংস্কৃত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সময়ের সাহিত্যিক ও স্থাপত্য নিদর্শনগুলো মধ্যপ্রদেশের ধর জেলায় দেবী সরস্বতীর একটি মন্দিরের অস্তিত্বের প্রমাণ দেয়।
একই সঙ্গে হিন্দু ফ্রন্ট ফর জাস্টিস এবং অন্যদের দায়ের করা আবেদন মঞ্জুর করে আদালত ২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের পরিচালকের দেওয়া আদেশের কিছু অংশ বাতিল করে।
ওই আদেশে ভোজশালা চত্বরে হিন্দুদের উপাসনার অধিকার সীমিত করা হয়েছিল এবং মুসলমান সম্প্রদায়কে নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
শুক্রবার আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগকে ধর জেলার ওই বিতর্কিত জমিতে অবস্থিত ভোজশালা এবং সংস্কৃত শিক্ষা কেন্দ্রের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
তবে আদালত এটিও স্পষ্ট করেছে, ১৯৫৮ সালের আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত এই স্মৃতিস্তম্ভের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা জরিপ বিভাগের অধীনেই থাকবে।
আদালতের মতে, ওই স্থানের সংরক্ষণ ও ধর্মীয় আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে জরিপ বিভাগের পূর্ণ তদারকি ক্ষমতা বহাল থাকবে।
যুক্তরাজ্যের একটি জাদুঘর থেকে দেবী সরস্বতীর মূর্তিকে ফিরিয়ে এনে ভোজশালায় পুনরায় স্থাপনের জন্য আবেদনকারীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানায়, এ বিষয়ে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে।
আদালত বলেছে, কেন্দ্র চাইলে ভোজশালা চত্বরে মূর্তিটি ফিরিয়ে আনা এবং পুনঃস্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
একইসঙ্গে মুসলমান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা এবং সব পক্ষের প্রতি ‘পূর্ণ ন্যায়বিচার’ নিশ্চিত করতে আদালত বলেছে, সংশ্লিষ্ট বিবাদী পক্ষ বা ওই সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধি সংস্থা আবেদন করলে রাজ্য সরকার ধর জেলার ভেতরেই কোনো উপযুক্ত জমি বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। সেখানে তারা মসজিদ নির্মাণ করতে পারবে।
আদালত বলেছে, এই বরাদ্দ অবশ্যই আইন অনুযায়ী হতে হবে এবং এর মধ্যে ধর্মীয় ও প্রশাসনিক সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় জমিও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
এর আগে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, মধ্যপ্রদেশ সরকার হাইকোর্টে তাদের লিখিত বক্তব্যে দাবি করেছিল, ধরের বিতর্কিত ভোজশালা স্থানটি ‘কখনোই কোনো মসজিদ ছিল না এবং সেখানে নামাজ পড়ার কোনো অধিকার মুসলমান সম্প্রদায়ের নেই’।