সিএনএন এক্সক্লুসিভ
যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি মজুত তদারকির সিস্টেমে ধারাবাহিক সাইবার হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এর পেছনে ইরানি হ্যাকাররা জড়িত।
শনিবার (১৬ মে) একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সিএনএন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, হ্যাকাররা মূলত অটোমেটিক ট্যাংক গেজ (এটিজি) সিস্টেমের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে। এই সিস্টেমগুলো কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই অনলাইনে উন্মুক্ত অবস্থায় ছিল।
এর সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা কিছু ক্ষেত্রে ট্যাংকের ডিসপ্লে রিডিং বা পর্দায় প্রদর্শিত তথ্যে হেরফের করতে সক্ষম হলেও ট্যাংকের ভেতরের মূল জ্বালানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন করতে পারেনি।
সিএনএন জানিয়েছে, এই সাইবার অনুপ্রবেশের ফলে কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি বা বড় কোনো বিপত্তির খবর পাওয়া যায়নি।
তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এই ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ তৈরি করেছে। কারণ কোনো হ্যাকার যদি এই এটিজি সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যায়, তাহলে সেটির মাধ্যমে জ্বালানি বা গ্যাস লিক হওয়ার ঘটনা অনায়াসে আড়াল করে ফেলা সম্ভব।
তদন্তের বিষয়ে অবগত সূত্রগুলো সিএনএনকে জানিয়েছে, অতীতেও জ্বালানি ট্যাংকের সিস্টেমে ইরানের হামলা চালানোর ইতিহাস রয়েছে। আর এ কারণে এই ঘটনার পেছনে তেহরানকে প্রধান সন্দেহভাজন মনে করা হচ্ছে।
তবে সূত্রগুলো একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেছে, হ্যাকাররা ডিজিটাল আলামত বা ফরেনসিক এভিডেন্স না রাখায় মার্কিন সরকার হয়তো সুনির্দিষ্টভাবে এই হামলার জন্য কাকে দায়ী করা যায়, তা নিশ্চিত করতে নাও পারে।
এই এটিজি হ্যাকিংয়ের বিষয়ে মার্কিন সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সিকিউরিটি এজেন্সির মন্তব্য জানতে চেয়েছিল সিএনএন। তবে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই) এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
যদি এই হামলায় ইরানের জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়, তাহলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে তেহরানের সাম্প্রতিকতম হুমকির দৃষ্টান্ত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মধ্যে ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন ভূখণ্ডে আঘাত করা সম্ভব না হলেও সাইবার স্পেসে তারা এই তৎপরতা চালাচ্ছে।
এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল ইস্যু তৈরি করতে পারে। কারণ, এটি যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে সাধারণ মানুষের সামনে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসবে।
সম্প্রতি সিএনএনের এক জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের কারণে তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তাছাড়া এই হ্যাকিংয়ের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালকদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ফেডারেল সরকারের বছরের পর বছর ধরে দেওয়া তাগিদ সত্ত্বেও তারা তাদের কম্পিউটার সিস্টেমগুলো সুরক্ষিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ইরানি হ্যাকিং গ্রুপগুলো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন অবকাঠামোর সহজ লক্ষ্যবস্তুগুলোর (যেমন তেল, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অনলাইনে অরক্ষিত কম্পিউটার সিস্টেম) সন্ধান করে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সঙ্গে সম্পৃক্ত হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিক হামলা চালায়। পানির চাপ নিয়ন্ত্রণকারী যন্ত্রপাতির স্ক্রিনে তারা ইসরায়েলবিরোধী বার্তা প্রদর্শন করেছিল।