যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) এক শীর্ষ নেতা নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু।
শনিবার (১৬ মে) এক বিবৃতিতে টিনুবু বলেন, ‘আমাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সশস্ত্র বাহিনী এবং মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে একটি সাহসী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে। এর মাধ্যমে ইসলামিক স্টেটের শীর্ষ সারিতে বড় ধরনের আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে।’
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, এই অভিযানের কথা প্রথম ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি নিহত আইএস নেতা আবু-বিলাল আল-মিনুকিকে ‘বিশ্বজুড়ে আইএসের দ্বিতীয় শীর্ষ কমান্ডার’ হিসেবে অভিহিত করেন।
২০২৩ সালে আল-মিনুকিকে ‘বিশেষভাবে চিহ্নিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল ওয়াশিংটন।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, আফ্রিকায় এই যৌথ অভিযান ‘নিখুঁতভাবে সম্পন্ন’ হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল ‘বিশ্বের সবচেয়ে সক্রিয় সন্ত্রাসীকে নির্মূল করা’।
২০১৯ সালে আইএস প্রধান আবু বকর আল-বাগদাদি নিহত হওয়ার পর আল-মিনুকির মৃত্যু দলটির জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা।
নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বিবৃতিতে জানান, লেক চাদ অববাহিকায় আল-মিনুকির আস্তানায় হামলা চালিয়ে ‘তার বেশ কয়েকজন সহযোগীসহ’ তাকে হত্যা করা হয়।
এই অববাহিকা পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এবং সংবেদনশীল অঞ্চল। এটি সাহারা মরুভূমির ঠিক দক্ষিণে (সাহেল অঞ্চলে) অবস্থিত।
নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ‘সম্প্রতি গঠিত যুক্তরাষ্ট্র-নাইজেরিয়া অংশীদারত্ব এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের’ ফলে এই ‘সুনির্দিষ্ট ও নিখুঁত অভিযান’ পরিচালনা করা সম্ভব হয়েছে।
সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, আল-মিনুকিকে আইএসের ‘হেড অব জেনারেল ডিরেক্টরেট অব স্টেটস’ পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল, যা তাকে বিশ্বজুড়ে আইএসের নেতৃত্ব কাঠামোর অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত করে।
নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই দায়িত্বে আসার আগে আল-মিনুকি সাহেল অঞ্চল এবং পশ্চিম আফ্রিকাজুড়ে আইএস সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম তদারকি করতেন, যার মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চালানো বেশ কিছু হামলাও ছিল।