যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অধিকারকর্মী লিন্ডা সারসুর যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো শহরের এক মসজিদে হামলা হয়েছে, সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানকার ইমাম তাহা হাসানকে বার্তা পাঠান।
সোমবার (১৮ মে) ওই মসজিদে বন্দুকহামলার পর এক সাক্ষাৎকারে লিন্ডা বলেন, ‘সান দিয়েগোর মসজিদটি সারা দেশের জন্য রোল মডেল। এটি চমৎকার এক জায়গা। এই মসজিদের ওপর হামলা হয়েছে বলেই আমি এটি বলছি না। আমি নিজে সেখানে বহুবার গিয়েছি।’
ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষাসহ মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম সারির সংগঠক হিসেবে সারসুরের পরিচিতি আছে। ৯/১১-পর মুসলমানদের অধিকারের পক্ষে কথা বলে আলোচনায় আসেন তিনি।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন সারসুর। সামাজিক কর্মকাণ্ডের সূত্রে সান দিয়েগোসহ যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে যাতায়াত রয়েছে তার।
সারসুর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, হামলার শিকার ওই মসজিদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর বৈচিত্র্য।
তিনি বলেন, ‘আফ্রিকান-আমেরিকান, আফ্রিকান অভিবাসী, আরব, ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা শ্বেতাঙ্গ, পূর্ব ইউরোপীয় থেকে শুরু করে লাতিনো—সব ধরনের মানুষ এখানে আসেন। আমার দেখা এটিই সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় মসজিদ।’
তিনি জানান, সান দিয়েগোর ওই মসজিদ জনসেবামূলক কাজ করে এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীদের পক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন সমাবেশে যোগ দিতে মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করে।
এছাড়া সাধারণ জনগণের জন্য সেখানে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
সারসুর বলেন, ‘মানুষের বৈচিত্র্যের কারণে মসজিদটিতে খুতবা পুরোপুরি ইংরেজি ভাষায় দেওয়া হয়। বৈচিত্র্যের কারণে কেউ চাইলে শুধু উর্দু বা আরবিতে এটি করতে পারবেন না।’
তার মতে, মসজিদটি কেবলই প্রার্থনালয় নয়। সেখানে সবসময় কোনো না কোনো কার্যক্রম চলতে থাকে।
মসজিদের ইমাম সম্পর্কে সারসুর বলেন, তাহা হাসান প্রথাগত ইমামদের মতো নন, যারা শুধু মসজিদে আসেন, নামাজ পড়ান এবং বাড়ি ফিরে যান।
ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এক সংবাদ সম্মেলনে তাহা হাসান বলেছিলেন, ‘পুরো সম্প্রদায় এখন গভীর শোকে মগ্ন। এমন একটি ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা কখনোই আশা করিনি। আমাদের দেশে বর্তমানে যে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা এবং ঘৃণা বিরাজ করছে, তা নজিরবিহীন। সহনশীলতা ও ভালোবাসার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের সবার।’
মসজিদের ওয়েবসাইটে বলা আছে, তাদের লক্ষ্য, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সেবায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে মিলে কাজ করা, শিক্ষা বিস্তার করা এবং দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখা।