বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণে একদিনে সর্বোচ্চ সাফল্যের নতুন রেকর্ড গড়েছেন পর্বতারোহীরা। বুধবার (২০ মে) নেপাল প্রান্ত দিয়ে রেকর্ডসংখ্যক ২৭৪ জন আরোহী এভারেস্টের চূড়ায় পা রেখেছেন।
একদিনে একই দিক থেকে এত বিপুলসংখ্যক আরোহীর এভারেস্ট জয়ের ঘটনা এটিই প্রথম। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
৮ হাজার ৮৪৯ মিটার উচ্চতার এভারেস্ট পর্বতমালা নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের সীমান্তে অবস্থিত। তাই দুই দিক থেকেই এভারেস্টে আরোহণ করা যায়।
তবে এ বছর চীন কর্তৃপক্ষ আরোহণের অনুমতি না দেওয়ায় তিব্বত প্রান্ত দিয়ে কোনো আরোহী যাননি বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারীরা।
নেপালের এক্সপেডিশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভান্ডারি আজ বৃহস্পতিবার জানান, এর আগে ২০১৯ সালের ২২ মে নেপাল প্রান্ত দিয়ে একদিনে সর্বোচ্চ ২২৩ জন এভারেস্ট জয় করেছিলেন।
রয়টার্সকে ভান্ডারি বলেন, ‘একদিনে এত বেশি আরোহীর চূড়ায় পৌঁছানোর ঘটনা এটিই প্রথম। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ চূড়ায় পৌঁছানো অনেক আরোহী হয়তো এখনও বেস ক্যাম্পে তাদের এই সাফল্যের কথা জানাতে পারেননি।’
এদিকে নেপালের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা হিমাল গৌতম জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বুধবার ২৫০ জনের বেশি মানুষ চূড়ায় আরোহণ করেছেন।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, ‘আরোহীরা ফিরে এসে আমাদের কাছে ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ জমা দিলে আমরা তাদের আরোহণ সনদ দেব। এরপরেই চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’
নেপাল এ বছর এভারেস্টে চড়ার জন্য মোট ৪৯৪টি পারমিট ইস্যু করে, যার প্রতিটির জন্য ফি নেওয়া হয় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার।
তবে পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই বিপুলসংখ্যক আরোহীকে অনুমতি দেওয়ার জন্য নেপালের সমালোচনা করে থাকেন। তাদের মতে, এর ফলে চূড়ার ঠিক নিচে ডেথ জোনে ঝুঁকিপূর্ণ জটলা বা দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। এই জোনে বাতাসের অক্সিজেনের মাত্রা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় স্তরের চেয়ে মারাত্মকভাবে কম থাকে।
অবশ্য অতিরিক্ত ভিড় ও অনভিজ্ঞ আরোহীদের কারণে তৈরি হওয়া এই ঝুঁকি কমাতে নেপাল সরকার এরই মধ্যে কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং উচ্চ ফি নির্ধারণের মতো পদক্ষেপ নিয়েছে।