ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিবাজী কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবস্মিতা পাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রোববার (৭ জুন) পশ্চিমবঙ্গ থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে দিল্লি পুলিশ। তারা জানিয়েছে, ৪৯ বছর বয়সী দেবস্মিতা তার মালিকানাধীন বর্ধমানের একটি সম্পত্তি ওই দম্পতির কাছে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় তারা দিল্লি গিয়ে তাকে হত্যা করেন।
ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব দিল্লির সত্যম অ্যাপার্টমেন্টসে নিজ ফ্ল্যাট থেকে গত বুধবার শিবাজী কলেজের শিক্ষক দেবস্মিতা পালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দম্পতি নিহতের বর্ধমানের ওই বাড়িতে ভাড়াটে হিসেবে থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে তারা বাড়িটি কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। দেবস্মিতা বাড়িটি বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় হত্যাকাণ্ড ঘটানোর জন্য দিল্লিতে আসেন তারা।
তদন্তকারীদের ধারণা, কেউ যাতে সন্দেহ না করে, সেজন্য তারা পূর্বপরিকল্পিতভাবে নিজেদের সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে এসেছিলেন।
পুলিশ সূত্রের খবর, ভাড়া দেওয়ার অজুহাতে তারা দেবস্মিতার ফ্ল্যাটে যান এবং সেখানে আবারও বাড়িটি বিক্রির জন্য তাকে চাপ দেন। দেবস্মিতা এবারও তা প্রত্যাখ্যান করলে দম্পতিটি ফ্ল্যাটের ভেতরেই তাকে হত্যা করেন। অপরাধ সংঘটনের পর তারা বাইরে থেকে ফ্ল্যাটে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান।
বৃহস্পতিবার দুপুরে দেবস্মিতার বোন দেবারতি পাল পুলিশকে খবর দিলে এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে।
তদন্তকারীরা মনে করছেন, গত বুধবার দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। কারণ দেবস্মিতা দুপুর ১টার দিকে তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। কিন্তু সন্ধ্যা ৬টার দিকে যখন তার গৃহকর্মী ফ্ল্যাটে যান এবং বারবার দরজায় কড়া নাড়েন, তখন ভেতর থেকে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি।