ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের অদূরে ৭.৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় রোববার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের কিছু আগে এই ভূকম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সুনামির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টারের তথ্যানুযায়ী, ফিলিপাইনের উপকূলীয় এলাকায় ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু সুনামির ঢেউ আঘাত হানতে পারে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার কিছু অংশে ১ মিটার পর্যন্ত উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোতে কোনো ঝুঁকির আশঙ্কা নেই।
ইতোমধ্যে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও জাপানের কর্মকর্তারা সতর্কবার্তা জারি করে উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মিন্দানাওয়ের জেনারেল সান্তোস সিটিতে জলিবিস রেস্তোরাসহ একটি তিনতলা ভবন ধ্বংসস্তূপ ও ধুলোর মেঘের মধ্যে ধসে পড়ছে। অন্যান্য ছবিতে ভবনগুলোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে, যার মধ্যে ভাঙা জানালা ও ধসে পড়া ছাদও ছিল।
ফিলিপাইনের রাষ্ট্রপতি ফার্দিনান্দ মার্কোস সোমবার সকালে বলেছেন, বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর এবং জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা পরিষদসহ জরুরি সংস্থাগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে।
বিপজ্জনক সুনামির ঝুঁকি সম্পর্কে সরকারি পরামর্শ মেনে চলার জন্য মার্কোস জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত প্রদেশগুলোতে থাকা আমাদের স্বদেশবাসী, দয়া করে সুনামির সতর্কবার্তা মেনে চলুন। এখনই উঁচু স্থানে চলে যান। অপেক্ষা করবেন না। পেছনে ফেলে আসা যেকোনো কিছুর চেয়ে আপনার জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।’
তিনি আরও বলেছেন, মিন্দানাওয়ের বেশ কয়েকটি প্রদেশের স্কুলগুলোও দিনের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছে।
ফিলিপাইনের ইনস্টিটিউট অফ ভলকানোলোজি অ্যান্ড সিসমোলজি (পিএইচআইভিওএলসিএস) জানিয়েছে, সারাঙ্গানি, ডাভাও অক্সিডেন্টাল, তাউই-তাউই এবং সুলুসহ নয়টি প্রদেশের উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে উঁচু স্থানে বা আরও ভেতরে সরে যেতে হবে।
নৌযানগুলোর বিষয়ে বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বন্দর, মোহনা বা অগভীর উপকূলীয় এলাকায় থাকা নৌকার মালিকদের তাদের নৌকাগুলোকে উপকূল থেকে দূরে সরিয়ে নিতে হবে। এছাড়া সমুদ্রে থাকা নৌকাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। উভয় দেশই ‘প্যাসিফিক রিং অব ফায়ার’–এর অন্তর্ভুক্ত।
সূত্র: আল জাজিরা