ব্রাজিলের লিমেইরা শহরে নিরাপত্তা দড়ি না বেঁধেই প্রায় ৪০ মিটার উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দেওয়ায় ২১ বছর বয়সী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। সামরিক পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই তথ্য জানিয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো তরুণীর নাম মারিয়া এদুয়ার্দা রদ্রিগেস দে ফ্রেইতাস। শনিবার (১৩ জুন) সকালে ব্রাজিলের সাও পাওলো রাজ্যে রোমাঞ্চকর খেলার জন্য পরিচিত পন্তে দো এসকেলেতো নামের স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হন মারিয়া। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
সাও পাওলোর জান্দিরা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন মারিয়া। শারীরিক শিক্ষা ও স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টে সম্প্রতি স্নাতক করেন এই তরুণী।
সামরিক পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন জানিয়েছেন, লাফ দেওয়ার আগে তরুণীর শরীরে নিরাপত্তা সরঞ্জাম সঠিকভাবে বাঁধা হয়নি। নিরাপত্তা দড়ি ছাড়াই লাফ দেওয়ায় তিনি প্রায় ৪০ মিটার নিচে গিয়ে পড়েন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান।
পরে জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মারিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝাঁপ দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে মারিয়া তার ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একটি পোস্ট করেছিলেন। রসিকতার সুরে তিনি লিখেছিলেন, ‘কোন পাগল আমাকে সেতু থেকে লাফ দেওয়ার অনুমতি দিল?’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মারিয়া সাধারণত তার দৈনন্দিন জীবন, শারীরিক কসরত, প্রকৃতি এবং সুস্থ জীবনযাপন সংক্রান্ত নানা পোস্ট শেয়ার করতেন।
এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বাঞ্জি জাম্পিংয়ের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা মারিয়াকে প্ল্যাটফর্মের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
প্ল্যাটফর্ম থেকে লাফ দেওয়ার ঠিক পরপরই নিরাপত্তা সরঞ্জাম যে বাঁধা হয়নি তা বুঝতে পেরে উপস্থিত লোকজনকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘আরে ভাই, দড়িটা তো বাঁধো নাই!’
সামরিক পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনার পরপরই দুজন কর্মী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে বনাঞ্চলে হেলিকপ্টারের সাহায্যে তল্লাশি চালিয়ে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।