ওমান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ায় ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।
তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘অনুগত ভৃত্যের মতো’ আচরণ করছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রোববার (১৪ জুন) দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী এই ক্ষোভ ঝাড়েন বলে জানিয়েছে টাইমস অব ইন্ডিয়া।
গত বৃহস্পতিবার ওমান উপকূলে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন বাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়। এমটি সেত্তেবেলো নামের পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজটিতে ২৮ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে ২৪ জন ভারতীয়।
ঘটনার পরদিন শুক্রবার সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে ফোনে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
ফোনে কী কথা হয়েছে, সে সম্পর্কে পরে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জয়শঙ্কর বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কথা বলেছি। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের তীব্র প্রতিবাদের বিষয়টি আমি পুনর্ব্যক্ত করেছি। বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রাণঘাতী পদক্ষেপ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।’
তবে জয়শঙ্করের এই বক্তব্য সন্তুষ্ট করতে পারেনি ভারতের বিরোধী দলের নেতাদের।
রাহুল গান্ধী মনে করেন, ওমান উপকূলে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয়নি। বরং যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, “কয়েকদিন আগে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। কিন্তু কোনো দুঃখপ্রকাশ নেই। কোনো ক্ষমা নেই। উল্টো যুক্তরাষ্ট্র নির্দেশ জারি করে যাচ্ছে। তাদের বক্তব্য দেখুন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনীর নির্দেশ অবিলম্বে মেনে চলুন।’ ‘কোনো লঙ্ঘন সহ্য করা হবে না।’”
কংগ্রেসের এই নেতা বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ কখনোই এমন ভাষা মেনে নেবে না। কিন্তু আমাদের আপসকামী প্রধানমন্ত্রী? নীরব। তারা একজন অনুগত ভৃত্যের মতো নির্দেশ শোনেন এবং তা পালন করেন।
‘এই আপসকারী প্রধানমন্ত্রী দেশের সম্মান রক্ষা করবেন না। কারণ যারা দেশকে অপমান করছে, তারা এদের নিয়ন্ত্রণ করছে।’
কংগ্রেসের অন্য নেতারাও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সমালোচনা করেন।
দলটির নেতা পাওয়ান খেরা বলেন, তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারতের উচিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা দাবি করা।
তিনি বলেন, ‘ভারতের উচিত ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষমা দাবি করা। সেই দাবি নিঃশর্তভাবে মেনে নেওয়াও উচিত ছিল।’