যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের কৌশলগত ধাক্কা। একই সঙ্গে এটি ওয়াশিংটনে তেল আবিবের কমতে থাকা প্রভাবকে স্পষ্ট করে তুলছে বলে মনে করছেন ইসরায়েলি বিশ্লেষকেরা।
যদিও এই চুক্তিটি এখনও চূড়ান্ত নয়। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে এটি চূড়ান্ত রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর প্রাথমিক রূপরেখা এরই মধ্যে ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই চুক্তি কার্যত ইরানের অর্জনগুলোকে স্থায়ী রূপ দিচ্ছে এবং ইসরায়েলের জন্য সবচেয়ে সংবেদনশীল বিষয় অর্থাৎ এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে ভবিষ্যতের জন্য ঝুলিয়ে রাখছে।
ইসরায়েলের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ড্যানি সিত্রিনোভিচের মতে, এই চুক্তির অর্থ, এটি আদতে ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রের জন্য রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মহাবিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়’।
এটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্যও বড় ধাক্কা।
তিনি আশা করেছিলেন, হামাস, হিজবুল্লাহ ও তেহরানের বিরুদ্ধে অভিযানে বিজয়ী বেশে আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে অংশ নেবেন। তার পরিবর্তে যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থতার কারণে তিনি এখন নিজ দেশেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।
সিত্রিনোভিচ বলেন, পরমাণু প্রশ্নটি অমীমাংসিত রাখার পাশাপাশি এই সংঘাতের ফলাফল এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে যে, ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ঝুঁকি নিতে চাইবেন না।
এর ফলে তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর তেহরান কার্যত আরও শক্তিশালী হয়ে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘দিনশেষে ইরান আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার কোনো ক্ষমতা এখন আর ইসরায়েলের নেই।’
নেতানিয়াহু এখনও এই চুক্তি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
তবে তার জোট সরকারের সহযোগী ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এরই মধ্যে এটি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, ইসরায়েল এই চুক্তি ‘মানতে বাধ্য নয়’।
নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের ইরানবিরোধী অবস্থানের কথা উল্লেখ করে সিত্রিনোভিচ বলেন, ‘এটি ইসরায়েলের জন্য এবং বিশেষ করে নেতানিয়াহুর জন্য অত্যন্ত খারাপ পরিস্থিতি। তিনি এখন এমন একটি চুক্তির বেড়াজালে আটকে গেছেন, যাতে ইসরায়েলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রায় কোনো বিষয়েরই সমাধান নেই।’
ইসরায়েলের ইনস্টিটিউট ফর ন্যাশনাল সিকিউরিটি স্টাডিজের বিশ্লেষক সিমা শাইন বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরেই জানতাম, এমন একটি চুক্তি হতে যাচ্ছে, যেখানে ইরানিদের বেশিরভাগ স্বার্থই বিবেচনায় নেওয়া হবে।
‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচির মতো ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যা আমাদের জানা নেই।’