ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের একদিনের মাথায় দক্ষিণ লেবাননে রাতভর বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে কমপক্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)।
এনএনএর বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সারারাত চালানো এই বিমান হামলার মূল লক্ষ্য ছিল লেবাননের নাবাতিয়েহ জেলার জনবহুল এলাকাগুলো।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে ‘বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে’ তারা দক্ষিণ লেবাননে এই হামলা চালিয়েছে।
আইডিএফ জানিয়েছে, তারা ‘রাতভর দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ যোদ্ধা ও তাদের অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এই অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে’।
অথচ লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান লড়াইয়ের অবসান ঘটানো ছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সমঝোতার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
১৪ দফার সমঝোতা স্মারকের প্রথম দফাতেই বলা আছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ ‘সব ফ্রন্টে’ সামরিক অভিযান ‘অবিলম্বে এবং স্থায়ীভাবে’ বন্ধের ঘোষণা দেবে। ‘এখন থেকে’ কোনো পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করবে না বা হুমকি দেবে না এবং লেবাননের ‘আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করবে।
সমঝোতা স্মারক সইয়ের দিন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার যেকোনো চেষ্টা এই ‘সমঝোতার লঙ্ঘন’ হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসরায়েলকে কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে লেবাননে এই হামলা চালায় তেল আবিব।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করায় ইসরায়েলি মন্ত্রীদের প্রতি এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন ভ্যান্স।
ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আমি যদি ইসরায়েল সরকারের মন্ত্রিপরিষদে থাকতাম, তাহলে পুরো বিশ্বে আমার একমাত্র যে শক্তিশালী মিত্রটি অবশিষ্ট আছে, অন্তত তার ওপর (ট্রাম্পের ওপর) আক্রমণ করার কথা ভাবতাম না।’