মার্কিন সরকারের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে চীনের ই-কমার্স ও প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা। পেন্টাগনের কালো তালিকা থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের (ডিওডি) অভিযোগ, চীনের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর নির্দেশনা মেনে চলায় আলিবাবা কার্যত দেশটির সামরিক বাহিনী-সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতে করা মামলায় আলিবাবা দাবি করেছে, এই অভিযোগের কোনো বাস্তব বা আইনি ভিত্তি নেই।
সম্প্রতি পেন্টাগন তাদের কালো তালিকার পরিধি বাড়িয়ে আলিবাবার পাশাপাশি চীনের আরও কয়েকটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান যেমন—বাইদু, বিওয়াইডি ও নিওকে অন্তর্ভুক্ত করে। চলতি মাসের শেষ থেকে এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক রাখতে পারবে না মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
ডিওডি আলিবাবাকে তথাকথিত ‘১২৬০এইচ তালিকায়’ অন্তর্ভুক্ত করে বলেছে, প্রতিষ্ঠানটি চীনের সামরিক-বেসামরিক সমন্বয়ের কাজে যুক্ত। জবাবে আলিবাবা জানিয়েছে, তাদের স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদের কোনো সদস্যের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা নেই। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, চীনে পরিচালিত সব বহুজাতিক কোম্পানিকেই স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়, যার মধ্যে মার্কিন কোম্পানিগুলোও রয়েছে। তাদের প্ল্যাটফর্মগুলো খুচরা বিক্রয় ও ক্লাউড কম্পিউটিং সেবার জন্য তৈরি করা হয়েছে, অস্ত্র বা গোয়েন্দা কার্যক্রমের জন্য নয়।
এক বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আলিবাবা কোনো চীনা সামরিক কোম্পানি নয় এবং সামরিক-বেসামরিক সমন্বয় কৌশলেরও অংশ নয়। ১২৬০এইচ তালিকায় আলিবাবাকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত স্বেচ্ছাচারী ও অযৌক্তিক। এ কারণে তালিকা থেকে নাম প্রত্যাহারের দাবিতে আমরা প্রতিরক্ষা দপ্তরের বিরুদ্ধে মামলা করেছি।
বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কালো তালিকাভুক্তির ফলে তাৎক্ষণিকভাবে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হলেও আগামী ৩০ জুন থেকে এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। ওই সময় থেকে পেন্টাগন আইনগতভাবে তালিকাভুক্ত কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না।
এ ছাড়া আইন অনুযায়ী, কোনো মার্কিন ঠিকাদার যদি কালো তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একই লবিস্ট বা আইনজীবী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে, তবে তারাও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়বে। আলিবাবার দাবি, এর ফলে তাদের দীর্ঘদিনের মার্কিন আইনগত ও নীতিগত পরামর্শদাতারা নিজেদের প্রতিরক্ষা চুক্তি রক্ষার জন্য সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হতে পারেন।
মামলার নথিতে আলিবাবা জানিয়েছে, চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে তারা আগে ডিওডির সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করেছিল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে নিজেদের অবদানের তথ্যও উপস্থাপন করেছিল।
তবে প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, তথ্য জমা দেওয়ার পরও ডিওডি কোনো অতিরিক্ত প্রশ্ন তোলেনি বা নতুন তথ্য চায়নি। বরং কোনো পূর্ব নোটিশ বা ন্যায্য শুনানি ছাড়াই আলিবাবাকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। সংস্থাটির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, ‘চলমান আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা কোনো মন্তব্য করি না।’