মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষবিদায়ের অনুষ্ঠান চলাকালে ইরানে ধারাবাহিক ‘শক্তিশালী’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার জবাবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) গতকাল মঙ্গলবার জানিয়েছে, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিরীহ নাবিকদের নিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য ইরানকে চড়া মূল্য দিতেই’ এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলাকে গত মাসে স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের ‘লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, তেহরান এর জবাবে ‘চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে’।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি জানিয়েছে, হামলাগুলো হয়েছে কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস ও সিরিক অঞ্চলে। সেখানে বোমার আঘাতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো নিহতের খবর পাওয়া যায়নি।
গতকাল রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মার্কিন এই হামলা মূলত ‘ইরানি আগ্রাসনের জবাব’।
এই হামলার ঠিক আগে গতকাল দিনের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ ছাড়পত্র বাতিল করে, যার মাধ্যমে ইরানের ওপর থেকে সাময়িকভাবে তেল নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছিল।
ইরানকে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য বিক্রির অনুমতি দেওয়া এই লাইসেন্সটি মূলত সমঝোতা স্মারকের অংশ ছিল।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে সমঝোতা স্মারকের ‘লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এটি মার্কিন সরকারের ‘অসৎ উদ্দেশ্য, অসঙ্গতি এবং অবিশ্বস্ততারই’ প্রমাণ।