ভারতের তামিলনাড়ুতে গরু ও বাছুর জবাইয়ের ওপর রাজ্যজুড়ে আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগম (টিভিকে) সরকারের আবেদনের পর সোমবার এ আদেশ দেন আদালত। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা বিশেষ অনুমতি আবেদন (স্পেশাল লিভ পিটিশন) গ্রহণ করে নোটিশ জারি করেন। একই সঙ্গে মাদ্রাজ হাইকোর্টের আদেশের শেষ অংশে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে বলে পর্যবেক্ষণ দেন বেঞ্চ।
এর আগে গত ২৭ মে এক আদেশে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তামিলনাড়ুর মুখ্য সচিব ও পুলিশের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন, বকরিদ (ঈদুল আজহা) উপলক্ষে ২৮ মে কিংবা বছরের অন্য যেকোনো দিন রাজ্যের কোথাও যেন গরু বা বাছুর জবাই না হয়, তা নিশ্চিত করতে।
সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া আবেদনে তামিলনাড়ু সরকার যুক্তি দেয়, হাইকোর্ট একদিকে পশু জবাই কেবল নির্ধারিত জবাইখানায় করার কথা বললেও, অন্যদিকে গরু ও বাছুর জবাই সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। সরকারের মতে, এই দুটি নির্দেশ পরস্পরবিরোধী।
হাইকোর্ট ১৯৭৬ সালের একটি রায়ের ভিত্তিতে এ আদেশ দিয়েছিলেন। ওই রায়ে দুধ উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতি সুরক্ষার স্বার্থে গরু জবাই নিষিদ্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল।
তবে তামিলনাড়ু সরকার বলেছে, হাইকোর্টের নির্দেশ তামিলনাড়ু অ্যানিমেল প্রিজারভেশন অ্যাক্ট, ১৯৫৮-এর বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। আইনে বলা হয়েছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী এবং কর্মক্ষমতা বা প্রজননের উপযোগিতা হারানো গরুকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সনদ নিয়ে জবাই করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য, হিন্দু মাক্কাল কাচ্চি দলের সাধারণ সম্পাদক কে. সূর্য প্রসান্তের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (পিআইএল) শুনানিতে মাদ্রাজ হাইকোর্ট এ আদেশ দেন। আবেদনে কেবল নির্ধারিত জবাইখানায় পশু জবাই নিশ্চিত করার নির্দেশনা চাওয়া হলেও, আদালত অতিরিক্তভাবে রাজ্যজুড়ে গরু ও বাছুর জবাই নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।