রাজনীতিক ও সমর্থকদের অনুরোধ সত্ত্বেও আমরণ অনশন ভাঙতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতের লাদাখের শিক্ষাবিদ ও জলবায়ুকর্মী সোনম ওয়াংচুক। উল্টো আগামী ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি সফল করার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোনম মনে করেন, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে অনশন ভেঙে দিলে তাতে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে।
গতকাল বুধবার রাতে অনশনের ১৮তম দিনে এক ভিডিও বার্তায় তিনি তার এই অবস্থানের কথা জানান বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়।
ভারতের এবারের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার দায় নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গেল জুনের তৃতীয় সপ্তাহে দিল্লির যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচির ডাক দেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে।
এই কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে একপর্যায়ে আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম।
এই অধিকারকর্মী জানান, অনশন প্রত্যাহারের জন্য সব মহল থেকে অনেক অনুরোধ পেয়েছেন তিনি। তবে তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন।
সরকারের কোনো সাড়া ছাড়া অনশন ভাঙলে কী লাভ হবে, ভিডিও বার্তায় এ প্রশ্ন তুলে সোনম বলেন, ‘আমি যদি এখন কিছু খাই, তাহলে কী বার্তা যাবে? সরকারের কাছে বার্তা যাবে, জবাবদিহির কোনো প্রয়োজন নেই। আন্দোলনকারীরা এসে বসে থাকে এবং একসময় চলে যায়।’
তিনি বলেন, ‘আমি অনশন ভাঙার জন্য হাজার হাজার বার্তা পেয়েছি। অনেক জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক আমার কাছে এসেছেন এবং অত্যন্ত স্নেহ ও উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেছেন। অনেকে এমনকি আদালত পর্যন্ত গিয়েছেন, যাতে আইনি নির্দেশনার মাধ্যমে আমার অনশন ভাঙানো যায়।’
নিজের শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে সোনম জানান, চিকিৎসকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো তাৎক্ষণিক ঝুঁকির লক্ষণ দেখা যায়নি।
তিনি বলেন, ‘আমার শারীরিক অবস্থা এমন নয় যে, আমি দু-চার দিনের মধ্যে মারা যাব। অনেকগুলো মেডিকেল টেস্ট করা হয়েছে, যার ফলগুলো বেশ স্বাভাবিক। ইসিজিও করা হয়েছে। সেটির রিপোর্টও খারাপ নয়। আমি আরও অনেক দিন এভাবে চালিয়ে যেতে পারব।’
‘হ্যাঁ, শরীরে দুর্বলতা আছে। মাংসপেশিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। তবে আমার হৃদযন্ত্র ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ এখনও ঠিক আছে,’ যোগ করেন এই অনশনকারী।
তাকে অনশন ভাঙার অনুরোধ না করে, বরং ২০ জুলাই ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি সফল করতে সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানান সোনম, যাতে সরকারের কাছে জোরালো বার্তা পাঠানো যায়।
তিনি বলেন, ‘আমি সব স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে অনুরোধ করব, তারা যেন ২০ জুলাই দিনটিকে জাতীয় শিক্ষানীতির অধীনে একটি প্রায়োগিক শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে।
‘এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও গণতন্ত্রের বাস্তব পাঠ দেখার এবং তাতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।’