মহাকাশ আর তার রহস্যময় জগৎ মানুষকে চমকে দিতে কখনোই ব্যর্থ হয় না। সর্বশেষ খবর বলছে, লাল গ্রহে অবতরণের ১৪ বছর পর নাসার কিউরিওসিটি রোভার (স্বয়ংক্রিয় বা দূরনিয়ন্ত্রিত রোবটযান) মঙ্গলপৃষ্ঠে মৌচাকের মতো একটি গঠনের ছবি তুলেছে। এর ফলে মঙ্গলের ক্রমাগত বাড়তে থাকা ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যের তালিকায় যুক্ত হলো আরও এক নতুন রহস্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে বলেছে, নাসার অভিজ্ঞ কিউরিওসিটি রোভার মঙ্গলে এমন এক অদ্ভুত ভূতাত্ত্বিক গঠন খুঁজে পেয়েছে, যার প্রেক্ষাপট বুঝতে বিজ্ঞানীরা হিমশিম খাচ্ছেন।
গেইল ক্রেটারের ভেতরে সাম্প্রতিক অভিযানের সময় রোভারটি গ্রহের পৃষ্ঠে খোদাই করা চমৎকার মৌচাকের মতো প্যাটার্নের ছবি তোলে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার কক্ষপথ থেকে যতটা বিস্ময়কর ছিল, ভূপৃষ্ঠেও ঠিক ততটাই চমকপ্রদ।
নাসার ব্লগ অনুসারে, মঙ্গলপৃষ্ঠের ওই অঞ্চল বিশাল এক মৌচাকের উপরিভাগের মতো দেখতে বহুভুজাকৃতির কাঠামোতে ঢাকা দেখে বেশ অবাক হন রোভারের বিজ্ঞানী দল।
ওই অঞ্চলের আরও গভীরে যাওয়ার পর দেখা যায়, ছোট নুড়ি থেকে শুরু করে মাঝারি আকারের কালচে রঙের পাথর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
নাসার ব্লগে বলা হয়, একটি প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। তা হলো, পাথরের ওই টুকরোগুলো মঙ্গলেরই কোনো উঁচু শিলাস্তর থেকে ‘ভেসে’ নিচে নেমে এসেছে, নাকি গেইল ক্রেটারের বাইরের কোনো দূরবর্তী সংঘর্ষের ফলে ছিটকে এখানে পড়েছে, অথবা এগুলো মঙ্গলের বাইরের কোনো উল্কাপিণ্ড কি না।
কীভাবে তৈরি হলো এই মৌচাক আকৃতি
এই অস্বাভাবিক গঠনটি কীভাবে তৈরি হলো, সে সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই।
তারা বলছেন, কোটি কোটি বছর ধরে মঙ্গলে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, প্রবহমান পানি, পলির স্থানান্তর, বাতাসের কারণে ক্ষয় এবং নাটকীয় জলবায়ু পরিবর্তনের মতো ঘটনা ঘটেছে।
এসবের যেকোনো একটি বা একাধিক প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাবে এই বহুভুজাকার গঠন তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
পৃথিবীতেও কাদা শুকিয়ে ফেটে যাওয়া, খনিজ পদার্থের স্ফটিকায়ন কিংবা বারবার জমে যাওয়া ও গলে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় এ ধরনের জ্যামিতিক নকশা তৈরি হতে দেখা যায়।
তবে মঙ্গলের এই গঠনও একই ধরনের ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায় তৈরি হয়েছে, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো কারণে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই গঠন কীভাবে তৈরি হয়েছে তা জানা গেলে, লাল গ্রহের অতীত পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।