ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনের ২১তম দিনে আজ শনিবার ভোরে লাদাখের শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে জোর করে হাসপাতালে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আগামী সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ ভবন অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত পদযাত্রার ৪৮ ঘণ্টা আগে তাকে অনশনস্থল থেকে সরিয়ে নিল পুলিশ।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, এদিন ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্যরা অনশনস্থলে প্রবেশ করেন এবং মঞ্চে উঠে পড়েন। পুরো অভিযানটি যেন ক্যামেরায় ধরা না পড়ে, সেজন্য তারা সোনমসহ পুরো মঞ্চকে সাদা চাদর দিয়ে ঢেকে দেন।
কয়েক মিনিটের মধ্যে এই অভিযান শেষ হয়। সেই সময় ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
‘এ কেমন গুন্ডামি’
আমরণ অনশন চলাকালে সোনম ওয়াংচুককে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দিল্লি পুলিশের অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারতের বিরোধী দলগুলো।
তাদের অভিযোগ, পুলিশ শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে। ভারত সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের অভিযোগ তোলার পাশাপাশি এ বছরের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টি ও সোনমের দাবির প্রতি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা।
আম আদমি পার্টির (আপ) রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সঞ্জয় সিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এ কেমন গুন্ডামি? মোদিজি, ক্ষমতার এই অহংকার বেশিদিন টিকবে না।
‘যে তরুণদের আপনি লাঠিপেটা করছেন, তারাই আপনার সিংহাসন উল্টে দেবে। যে মানুষটি গত ২১ দিন ধরে আমরণ অনশনে ছিলেন, তার দাবি শোনার পরিবর্তে তাকে জোর করে গ্রেপ্তার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হলো।’
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সাগরিকা ঘোষও পুলিশের এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন।
এক্সে তিনি লেখেন, ‘এ কেমন রাষ্ট্রীয় জবরদস্তি? এই নৈতিকভাবে দেউলিয়া সরকার শুধু লাঠির ভাষা বোঝে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’
ন্যাশনাল কংগ্রেস পার্টির (এসপি) প্রধান শারদ পাওয়ারও সোনমের আন্দোলনের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করেন।
তার অভিযোগ, সরকার শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে' চলে যাওয়ার পর পদক্ষেপ নেয়।