দিল্লি পুলিশ আমরণ অনশনরত শিক্ষাবিদ ও অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুককে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর এবার একই কর্মসূচি শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আজ শনিবার দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন বলে জানিয়েছে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
অভিজিৎ লিখেছেন, ‘আমি এখন থেকে আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করছি।’
এর আগে শনিবার ভোরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আমরণ অনশনের ২১তম দিনে সোনম ওয়াংচুককে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
এই ঘটনার পর অভিজিৎ অভিযোগ করেন, এদিন ভোরে দিল্লি পুলিশ তাকে মারধর করে এবং আটকে রাখে।
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা বিবিসিকে বলেন, ভোরে তিনি হাত-মুখ ধুতে এক বন্ধুর বাড়িতে গিয়েছিলেন। ঠিক তখন পুলিশ সেখানে হাজির হয় এবং তাকে সেখান থেকে বের হতে বাধা দেয়। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হলেও যন্তর মন্তরের অনশনস্থলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আগামী সোমবার ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন সংসদ ভবন অভিমুখে ককরোচ জনতা পার্টির পূর্বঘোষিত পদযাত্রার দুদিন আগে এ ঘটনা ঘটল।
গত মে মাসে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের জেরে লাখ লাখ শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি।
তাদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ৫৯ বছর বয়সী সোনম গত ২৮ জুন থেকে অনশন কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে দিল্লি পুলিশ শনিবার যন্তর মন্তরে অবস্থানরত আন্দোলনকারীদের যত দ্রুত সম্ভব অনশনস্থল খালি করার আহ্বান জানিয়েছে। সোনমকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি শুনানিতে ‘পরজীবী' ও ‘তেলাপোকা' মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে গত ১৬ মে ব্যঙ্গাত্মক দল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ।
আগের দিন ১৫ মে একটি মামলার শুনানির সময় সূর্য কান্ত এক আইনজীবীকে তিরস্কার করতে গিয়ে ভারতের তরুণ সমাজকে ‘পরজীবী’ ও ‘তেলাপোকার’ সঙ্গে তুলনা করেন।
তিনি বলেছিলেন, ‘এরা (তরুণেরা) কোনো চাকরি পায় না এবং পেশাগত জগতেও এদের কোনো স্থান নেই। তেলাপোকার মতো কিছু তরুণ আছে, যারা কোনো কর্মসংস্থান পায় না বা পেশায় জায়গা করে নিতে পারে না।
‘তাদের কেউ কেউ সংবাদকর্মী বনে যায়, কেউ সোশ্যাল মিডিয়া চালায়, আবার কেউ তথ্যের অধিকারকর্মী বা অন্যান্য সমাজকর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করা শুরু করে।’
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ ভারতের পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক করেছেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর করেন।
২০২০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আম আদমি পার্টির (আপ) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অভিজিৎ। দলটির সোশ্যাল মিডিয়া টিমে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন তিনি।
২০২০ সালে দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন দলটির হয়ে মিমভিত্তিক ডিজিটাল প্রচারে তিনি কাজ করেছিলেন। ওই নির্বাচনে আপ জয়লাভ করে।