ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) জানিয়েছে, তাদের অন্যতম প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার আগামীকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
আজ শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান সিজেপির প্রতিনিধিরা।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিজেপির প্রতিনিধিরা বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দুটি দাবির প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেওয়া হয়েছে। তবে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আরও কিছু সময় চাওয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সিজেপির জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার আগামীকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছে।’
এর আগে দুপুর ২টার দিকে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়ায় সিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে বৈঠক শুরু হয়।
নয়াদিল্লির রফি মার্গে অবস্থিত এই কনস্টিটিউশন ক্লাবে আজ দুপুরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিদের বৈঠকে বসার কথা ছিল।
এ লক্ষ্যে দুপুর ১টার দিকে যন্তর মন্তর থেকে কনস্টিটিউশন ক্লাবের উদ্দেশে রওনা হন সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা।
এসময় সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে অবস্থান করেন।
এদিকে দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশন (ডিএমআরসি) শুক্রবার পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লি মেট্রো স্টেশন পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর ফলে রাজধানীজুড়ে বন্ধ হওয়া মেট্রো স্টেশনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮টিতে।
টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন এক নির্দেশিকায় ডিএমআরসি জানিয়েছে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত নয়াদিল্লি মেট্রো স্টেশনে প্রবেশ, প্রস্থান এবং ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা স্থগিত থাকবে।
এর আগে দিনের শুরুতে সংস্থাটি ‘নিরাপত্তাজনিত কারণ’ দেখিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৭টি স্টেশন বন্ধের ঘোষণা দেয়।
যন্তর মন্তরে সিজেপির আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো রাজধানীতে এই কঠোর বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে।
বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো হলো লোক কল্যাণ মার্গ, রাজীব চক, প্যাটেল চক, রামকৃষ্ণ আশ্রম মার্গ, বড়খাম্বা রোড, সুপ্রিম কোর্ট, সেবা তীর্থ, জনপথ, মান্ডি হাউস, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, আইটিও, দিল্লি গেট, ইন্দ্রপ্রস্থ, খান মার্কেট, জোর বাগ, শিবাজী স্টেডিয়াম, ঝান্ডেওয়ালান এবং নয়াদিল্লি।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ আমলাতন্ত্রে কেন্দ্র সরকারের রদবদলের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন অভিজিৎ দিপকে।
এ রদবদলের অংশ হিসেবে উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে পঞ্চায়েতি রাজ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে এবং তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নরেশ কুমার গাঙ্গওয়ারকে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, ‘গত রাতে শিক্ষা সচিবকে বদলি করা হয়েছে। তার জায়গায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক আইএএস কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে; যার বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
‘অভিযুক্ত এক আমলাকে সরিয়ে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ থাকা অন্য একজনকে সেখানে বসিয়ে ভারতের তরুণদের অপমান করা হয়েছে।’