মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলো ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে। গতকাল শনিবার ‘অপ্রত্যাশিতভাবে উত্তেজনা বেড়ে যেতে পারে’ উল্লেখ করে তাদের মধ্যপ্রাচ্য ছাড়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। একই সঙ্গে তারা ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা না করার জন্য বিভিন্ন দেশকে আহ্বান জানিয়েছে।
ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার বাহরাইন, মিসর, ইরাক, ইসরায়েল, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে মার্কিন দূতাবাসগুলো অনলাইনে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করে।
এতে বলা হয়, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সেখান থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। পরিস্থিতির অবনতি হলে যেন দ্রুত চলে যেতে পারেন, সে প্রস্তুতিও রাখা উচিত।’
এছাড়া নাগরিকদের বিমান চলাচলের সর্বশেষ তথ্য নিয়মিত খোঁজ নেওয়া এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সতর্কবার্তায় বলা হয়, ‘বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য ফ্লাইট বাতিল, সময়ে সময়ে আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ভ্রমণে বিঘ্ন ঘটার মতো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সেখানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি এসব ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলে থাকা মার্কিন নাগরিকদের নিকটতম বোমা আশ্রয়কেন্দ্র কোথায় রয়েছে, তা আগে থেকেই জেনে রাখতে বলা হয়েছে।
জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের এক বার্তায় বলা হয়, ‘ইরান সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, তা অনুমান করা কঠিন। তারা কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা বা উসকানি ছাড়াই এ অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছে। আগে লক্ষ্যবস্তু না হওয়া এলাকাতেও (যেমন মিসর) হামলার পরিধি বাড়িয়েছে।’
অন্যদিকে বৈরুতে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন সরকারি কর্মীদের লেবাননের বাইরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে।