মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে শিক্ষকতার দায়িত্ব পেয়ে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাসিন্দা নাথান টমাস। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে তিনি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছেন।
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের আগস্টে মায়ামি ডেইড কলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন নাথান। সেখানে তিনি প্রকৌশলীদের জন্য সি প্রোগ্রামিং বিষয়ের ক্লাস নেওয়া শুরু করেন। সেসময় কলেজের অনেক শিক্ষার্থীই ছিলেন তার সমবয়সী।
দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নাথানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এর মধ্য দিয়ে স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাক্লরিনের ১৭০৭ সালের রেকর্ড ভেঙে দেন নাথান। ম্যাক্লরিন ১৮ শতকের শুরুতে ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হয়েছিলেন।
দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, দীর্ঘ ৩০৬ বছর ধরে অটুট থাকা সেই রেকর্ড এবার নিজের করে নিলেন নাথান।
শুধু তা-ই নয়, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস নিশ্চিত করেছে, ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নারী অধ্যাপক হওয়া আলিয়া সাবুরের চেয়েও নাথান বয়সে ১৬ দিনের ছোট।
গিনেসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় নাথান বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষে সবাই এক উদ্দেশ্যে আসে, শেখার জন্য। সেখানে বয়স আসলে কোনো বিষয় নয়।
‘আমি শুধু আমার কাজটা ঠিকভাবে করা এবং শিক্ষার্থীদের যতটা সম্ভব সাহায্য করার ওপর নজর দিই। কেউ যদি শিখতে এবং চেষ্টা করতে রাজি থাকে, আমার কাছে সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
‘বিশেষ একজন’
প্রকৌশল প্রশিক্ষক হিসেবে জটিল কম্পিউটিং এবং প্রোগ্রামিংয়ের বিষয়গুলো পড়িয়ে থাকেন নাথান। তার এই অর্জন সহকর্মীদের কাছ থেকেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মায়ামি ডেইড কলেজের স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং, টেকনোলজি অ্যান্ড ডিজাইনের ডিন ম্যানি পেরেজ দ্য রিপোর্টারকে বলেন, ‘তাকে (নাথান টমাস) আমাদের সহকর্মী হিসেবে পেয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত।
‘নাথানের মতো কোনো মানুষের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ যখনই হবে, আপনি বুঝতে পারবেন, তিনি বিশেষ একজন। এমন একজন যে আমাদের অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে পারে।’
নাথানের একাডেমিক জীবন শুরু হয়েছিল অস্বাভাবিক অল্প বয়সে। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মায়ামি ডেইড কলেজে ভর্তি হন এবং ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত হন।
পরবর্তী চার বছরে কৃতিত্বের সঙ্গে তড়িৎ প্রকৌশলে স্নাতক (অনার্স) ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন নাথান। প্রকৌশলী পরিবারের সন্তান হওয়ায় বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই তার আগ্রহ গড়ে ওঠে।
নিজের গাণিতিক ভালোবাসার পেছনে মায়ের অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে নাথান জানান, কঠিন বিষয় সহজ করে বোঝানোর অসাধারণ দক্ষতা ছিল তার মায়ের।
বর্তমানে ২১ বছর বয়সী নাথান অনলাইনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামি স্কুল অব ল-তে জুরিস ডক্টর ডিগ্রির পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন; যা ২০২৮ সালে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।