জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের সুবিধা সীমিত করতে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ আগে এ-সংক্রান্ত তার আগের উদ্যোগকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট।
এরপর অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপ জোরদারের অংশ হিসেবে নতুন এ সিদ্ধান্ত নিলেন ট্রাম্প।
টাইমস অব ইন্ডিয়া আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ট্রাম্পের আগের নির্দেশের চেয়ে নতুন নির্বাহী আদেশগুলোর আওতা কিছুটা সীমিত। মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব ধারার অধীনে যেসব গোষ্ঠী সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নয় বলে প্রশাসন দাবি করছে, মূলত তাদেরই এতে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে বার্থ ট্যুরিজম বা নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে সন্তান প্রসবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তি, বিদেশি সরকারের কর্মচারী এবং ‘শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তানেরা।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ বন্ধে কংগ্রেস কোনো প্রস্তাবিত বিল পাস করলে এই আদেশ সেখানে জন্মগ্রহণকারীদের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তাদের এই সর্বশেষ নির্দেশিকা ৩০ জুনের সুপ্রিম কোর্টের রায়কে লঙ্ঘন করে না। কারণ যাদের ওপর এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে, তারা সংবিধানের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুরক্ষার আওতায় পড়ে না।
ওভাল অফিসে গতকাল বৃহস্পতিবার স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে হোয়াইট হাউসের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার বলেন, ‘এই আদেশে স্বাক্ষরের পর থেকে বার্থ ট্যুরিজমের চর্চা নিষিদ্ধ করা হলো। এর অর্থ হলো, এই প্রতারণামূলক উদ্দেশ্যে বিশ্বের কারও জন্য ভিসা পাওয়া আর সম্ভব হবে না।’
তবে ট্রাম্পের এই নতুন নির্বাহী আদেশগুলো অবিলম্বে আবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। গর্ভবতী বিদেশি নারীরা যেভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করেন, যাকে প্রশাসন বার্থ ট্যুরিজম বলে আখ্যায়িত করছে, সেটির ওপরই মূল নজর দেওয়া হয়েছে।
সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের ২০২০ সালের এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যের এক বছরে আনুমানিক ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার গর্ভবতী নারী বার্থ ট্যুরিজমের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন।
২০২৫ সালে ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিনেই একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। সেখানে মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) না হলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান রদের চেষ্টা করা হয়।
তবে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর দীর্ঘদিনের ব্যাখ্যা পুনর্ব্যক্ত করে ট্রাম্পের সেই উদ্যোগকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেন।