বগুড়া-নওগাঁ আঞ্চলিক মহাসড়কের বগুড়া সদর উপজেলার এরুলিয়ায় বাসচাপায় সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন। শুক্রবার (৭ আগস্ট) ভোর পৌনে ৬টার দিকে এরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে বগুড়া সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা উত্তেজিত হয়ে একটি গাড়ি ভাঙচুর করেছেন। বর্তমানে ওই সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন, বগুড়া সদর উপজেলার ফাপড় এলাকার বেলাল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের আমিরুল ও নূর আলম নামের এক ব্যক্তি। বাকিদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত ও আহতরা সবাই কাজের সন্ধানে ভোরে এরুলিয়া বাজারে বসা শ্রমিকের হাটে এসেছিলেন।
জানা যায়, রংপুর, গাইবান্ধা, পাবনাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দিনমজুরেরা প্রতিদিন ভোরে এরুলিয়া বাজারের এই হাটে কাজের সন্ধানে জড়ো হন। স্থানীয় গৃহস্থরা এখান থেকেই দৈনিক মজুরিতে শ্রমিক সংগ্রহ করেন। শুক্রবার ভোরে ঢাকা থেকে নওগাঁ অভিমুখী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুরদের ওপর উঠে যায়। ব্রেক করার কারণে বাসটি উল্টো ঘুরে বগুড়ামুখী হয়ে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিক নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিনজন মারা যান। পরে আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এরুলিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুর রাজ্জাক জানান, বৃষ্টির মধ্যে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে পোলে ধাক্কা দেয়। চালক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পারেনি। সেখানে গ্রামের ভাষায় আমরা যাদের কামলা বলি, সেই কৃষাণেরা কাজের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন। গাড়িটি তাদের ওপর উঠে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনজন ও পরে হাসপাতালে আরও তিনজন মারা যান। এই স্থানে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে। এখানে একটি গতিরোধক বা স্পিডব্রেকার দেওয়া স্থানীয় মানুষের জোরালো দাবি।
বগুড়া মেডিকেল ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) কৃষ্ণ জানান, হাসপাতালে নিয়ে আসার পরে ডাক্তার তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।