উত্তর-পূর্বের অরুণাচল প্রদেশের কয়েকটি স্থানের নাম বারবার পরিবর্তনের চীনের প্রচেষ্টার জবাবে সীমান্তবর্তী রাজ্যটির ২৭টি স্থানের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন এলাকা, গিরিপথ, একটি হ্রদ এবং একটি স্মৃতিসৌধ।
ভারতের দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভারতের মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশের এসব স্থানকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার উদ্দেশ্য হলো এগুলোকে সঠিকভাবে শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আরও সচেতনতা তৈরি করা।’
ভারতের মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত এই ২৭টি স্থানের মধ্যে রয়েছে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা সংলগ্ন লং জু। ১৯৫৯ সালে চীনা বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করলে দুই দেশের মধ্যে প্রথমদিকের যে কয়েকটি উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল লং জু।
বিবৃতিতে বলা হয়, আপার সুবানসিরি জেলার লং জুর কাছে অবস্থিত মাজা নামের একটি গ্রামও মানচিত্রে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তালিকায় রয়েছে বিসা গ্রাম, অঞ্চলটির কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পার্বত্য গিরিপথ জো লা, রিজা লা ও পুকুর লা।
কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উচ্চ পার্বত্য গিরিপথগুলোর একটি থাগ লা-ও মানচিত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৯৬২ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে যুদ্ধের শুরুর দিকের একটি লড়াই হয়েছিল এই গিরিপথে।
তালিকায় আরও রয়েছে চাংলাং জেলার গুরুত্বপূর্ণ রসদ কেন্দ্র জয়রামপুর। পূর্ব অরুণাচল ও মিয়ানমার সীমান্তের দিকে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের যাতায়াতে সহায়তা করায় এলাকাটি পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত।
তালিকায় রয়েছে সাম্ভো সরোবর নামে একটি উচ্চ পার্বত্য হ্রদ, পূর্ব অরুণাচল প্রদেশের বাড়া কুন্দুন ও ছোটা কুন্দুন, ধান বারি, প্রীতনগর, তেরিতনগর, রামনগর এবং তাওয়াং রোডে অবস্থিত যশবন্ত গড়।
সেখানে শহীদ যশবন্ত সিং রাওয়াতের স্মৃতিসৌধ রয়েছে। এছাড়া সাগর, পদ্মা, জ্যোতিনগর ও বৈশাখী গ্রামও তালিকায় রয়েছে।
১৯৬২ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া বীর ত্রিলোক সিং থাপার স্মরণে নির্মিত শের-ই-থাপা মেমোরিয়াল, ছোটা রোপুক ও বাড়া রোপুক, শিবাজি নগর, সুনপুরা, কামলাং অভয়ারণ্যের কাছে অবস্থিত কামলাং নগর এবং বুদ্ধ মন্দির তালিকায় রয়েছে।
ভারত দীর্ঘদিন ধরে তার ভূখণ্ডের বিভিন্ন স্থানের ‘কাল্পনিক নাম’ দেওয়ার চীনা প্রচেষ্টাকে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
নয়াদিল্লির ভাষ্য, এ ধরনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে ‘ভিত্তিহীন বয়ান’ তৈরি করা হলেও তা ‘অনস্বীকার্য বাস্তবতা’ বদলে দিতে পারবে না।
বরং এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।