পর্যাপ্ত জনবল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় পরিচালনাগত প্রস্তুতি নিশ্চিত না করেই জুলাই জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। শুক্রবার (৭ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
ফারুকী বলেন, ‘কোনো রকম স্টাফ না দিয়ে, সিকিউরিটি প্রটোকল রিহার্সাল না করে এইভাবে মিউজিয়ামটা কোন বিবেচনায় খোলা হলো, এটা আমার কাছে বিস্ময়কর লাগছে।’
জুলাই নিয়ে মানুষের আগ্রহকে অনুপ্রেরণাদায়ক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই জাদুঘরে শহীদদের স্মৃতিচিহ্নের পাশাপাশি অনেক ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম রয়েছে। এভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিছু জিনিস একবার নষ্ট হলে সেগুলো আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে না।’
দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতার বিষয়টিও তুলে ধরে ফারুকী বলেন, ‘এভাবে যদি দর্শনার্থীদের জাদুঘর দেখতে হয়, তাহলে তারা এর যথাযথ অভিজ্ঞতা পাবেন না। বরং এমন পরিস্থিতি দর্শনার্থীদের জন্যও এক ধরনের শাস্তি।’
জুলাই জাদুঘরের কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফারুকী বলেন, ‘জাদুঘরের অপারেশনাল দিক ঠিক করার জন্য পাঁচ মাস সময় যথেষ্ট ছিল কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি হার্টব্রেকিং।’
জাদুঘরটি দ্রুত যথাযথভাবে পরিচালনার জন্য জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনে সাময়িকভাবে জাদুঘর বন্ধ রাখা যেতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, নিরাপত্তা প্রটোকল রিহার্সালসহ সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে এটি চালু করা উচিত।’
জুলাই জাদুঘর একটি কেপিআই-১ শ্রেণিভুক্ত স্থাপনা উল্লেখ করে, এমন একটি সংবেদনশীল স্থাপনা কেন এভাবে অপ্রস্তুত অবস্থায় খুলে দেওয়া হলো, সে প্রশ্নও তোলেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো আন্তরিকভাবে উদ্যোগ নিলে এতদিনে জাদুঘরটি যথাযথভাবে চালু করা সম্ভব হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।