কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে সোমবার ভোরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৮২ জন নিহত হয়েছেন। এতে দেশটির বিভিন্ন শহরে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেক মানুষ আটকা পড়েছেন। উদ্ধারকারীরা এখনও তাদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলবর্তী স্বল্প জনবসতিপূর্ণ চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে এবং এর কম্পন দেশটির বড় বড় শহরেও অনুভূত হয়।
সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে কফি উৎপাদনকারী রিসারালদা প্রদেশে।
প্রদেশটির গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন। প্রাদেশিক রাজধানী পেরেইরায় একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ম্যানিজালেস শহরে একটি ক্যাথেড্রালের টাওয়ার ভেঙে পড়ে এবং সেখানে অন্তত তিনজন নিহত হন। প্রশান্ত মহাসাগরীয় বন্দরনগরী বুয়েনাভেনতুরায় ভবনধসে একজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
দেশটির অন্যতম বৃহৎ কালি শহরে ২৫টিরও বেশি স্থাপনা ধসে পড়েছে। শহরের মেয়র আলেহান্দ্রো জানান, অন্তত ১২টি স্থানে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত এক বৃদ্ধা ও এক কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। আরও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন বলে তিনি জানান। উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য রাজধানী বোগোতা ও মেডেলিন থেকে বিশেষ দুর্যোগ মোকাবিলা দল পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে।
চোকো প্রদেশের গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, প্রাদেশিক রাজধানী কিবদোতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বাসিন্দাদের সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলেছেন।
সম্প্রতি দায়িত্ব নেওয়া প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া সব নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। রাজধানী বোগোতায় ফিরে তিনি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করবেন।
ভূমিকম্পের পর পেরেইরা, ম্যানিজালেস, কিবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরা বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কীকরণ ব্যবস্থা জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পের ফলে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
কলম্বিয়া আন্দিজ পর্বতমালার তিনটি শাখার ওপর অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।