গবেষণায় প্লেজিয়ারিজম বা চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে বিতর্কের মুখে পদত্যাগ করা কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক জেসন আরডের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
জরুরি সেবা বিভাগের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার বিকেলে দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসির একটি ঠিকানায় এক ব্যক্তিকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এবং নিজের কিছু অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর গত সপ্তাহে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন আরডে। তবে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
আরডের পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এই অসাধারণ বাবা, সঙ্গী, ভাই, চাচা ও ছেলেকে হারিয়ে আমরা হতবাক।
‘ভুল তথ্যের প্রচারণা জেসনের সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল মনের মানুষ। সবসময় সবার মধ্যে ভালো কিছু দেখতে চাইতেন।’
এর আগে শুক্রবার লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের অনুরোধে ব্যাটারসির ওই ঠিকানায় পুলিশ কর্মকর্তারা যান।
মেট্রোপলিটন পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, এ মুহূর্তে জেসন আরডের মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে এতে সন্দেহজনক কোনো কিছুর ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডেবোরাহ প্রেন্টিস বলেন, ‘এই মর্মান্তিক খবর শুনে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। কঠিন এই সময়ে জেসন আরডের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা।’
২০২৪ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বরখাস্ত হওয়া এবং নিজেকে ‘বর্ণগত বাস্তববাদী’ বলে পরিচয় দেওয়া শিক্ষক নাথান কফনাস প্রথম আরডের বিরুদ্ধে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ তোলেন।
পাশাপাশি আরডের দাবি করা কয়েকটি সাফল্য নিয়েও প্রশ্ন ছিল তার।
পরবর্তীতে আরডে তার গবেষণাকাজে কিছু ভুল থাকার কথা স্বীকার করলেও জোর দিয়ে বলেন, তিনি ‘মিথ্যাবাদী’ নন।
গুড ল প্রজেক্টে ৫ আগস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরডে বলেছিলেন, কেমব্রিজের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ছিল ‘নিঃসন্দেহে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পেশাগত সম্মান’।
তিনি বলেন, ‘নিয়োগ পাওয়ার পরের বছরগুলোতে আমাকে অবিরাম সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণের মুখে পড়তে হয়। সেসময় এর ব্যক্তিগত খেসারত খুব বেশি হয়ে দাঁড়ায়।
‘আমাকে ঘিরে যে প্রচারণা হয়েছে, সেটিকে সত্য বলে মেনে নেওয়া হয়েছে, এমনটাও ভাবা উচিত নয়।’
আরডে জানান, তার এই পদত্যাগকে যেন ‘শিক্ষার প্রতি আস্থা হারানো বা যে আদর্শ তাকে কেমব্রিজে এনেছিল, তার পরাজয় হিসেবে না দেখা হয়’।
এর আগে ৫ আগস্ট এক বিবৃতিতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, আরডের ‘শিক্ষাগত যোগ্যতা ও সম্মানসূচক পদগুলো’ নিয়ে ‘নতুন তথ্য পাওয়ার পর’ তারা তদন্ত শুরু করেছে।
এছাড়া একাডেমিক অনিয়মের বিষয়ে একাধিক অভিযোগ রয়েছে, যা ‘আমাদের রিসার্চ মিসকন্ডাক্ট’ নীতিমালা অনুযায়ী খতিয়ে দেখা হচ্ছে।