ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালানোর জন্য ‘কখনো ক্ষমা চাইবেন না’ বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হওয়া থেকে ঠেকাতে হলে জ্বালানির কিছুটা বাড়তি দাম দেওয়াও সার্থক।
নিউইয়র্কের নাসাউ কাউন্টিতে গতকাল শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এ কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানির জন্য আপনাকে যদি সামান্য একটু বেশি দাম দিতে হয়, তাহলে মনে রাখবেন, সেটা করছেন যেন খুব মন্দ একটি দেশ, আসলে বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র, পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না পারে। তাই যখন আপনাদের একটু বেশি টাকা গুনতে হবে, তখন বিষয়টি মাথায় রাখবেন।’
এসময় আমেরিকানদের ওপর যুদ্ধের আর্থিক প্রভাবকে খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে ইরান আক্রমণের সিদ্ধান্তকে ‘সঠিক’ বলে দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তিনি বলেন, ‘এখন তেলের দাম ৪ ডলারের মতো। ঠিক আছে। মানে আমি ক্ষমা চাইছি না। আমি কখনো ক্ষমা চাইব না। আমি একদম সঠিক কাজই করেছি।’
এর কয়েক ঘণ্টা আগে বিদায়ী হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছিলেন, জ্বালানির দাম কম রাখা এবং ইরানকে কখনো পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে না দেওয়া, এই দুটি লক্ষ্য প্রেসিডেন্টের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সিএনএন বলছে, যুদ্ধ শুরুর দিকে ট্রাম্প প্রশাসনের কেবল পারমাণবিক ইস্যুকেন্দ্রিক বক্তব্যের পর এটিকে এক ধরনের সুর বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধের একদম শুরুতে ট্রাম্প প্রশাসন এর পক্ষে কেবল একটি যুক্তি দিয়েছিল, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে।
অর্থাৎ, তারা পুরো বিষয়টিকে কেবল ইরানের পারমাণবিক হুমকি মোকাবিলার জায়গা থেকে ব্যাখ্যা করেছিল। কিন্তু ক্যারোলিন লেভিটের শুক্রবারের বক্তব্যে দেখা গেল, তিনি দুটি বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিয়ে বলছেন, একদিকে ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র আটকানো, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম কম রাখা।
আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন তেলের গড় দাম দাঁড়ায় ৪ দশমিক শূন্য ৭ ডলারে; যা এক মাস আগে ছিল ৩ দশমিক ৮৫ ডলার। এক বছর আগে ছিল ৩ দশমিক ১৬ ডলার।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ট্রাম্প যুক্তি দিয়ে আসছেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে দূরে রাখতে তেলের এই ‘সামান্য মূল্যবৃদ্ধি’ খুবই ছোট ত্যাগ।
তবে সিএনএনের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৭৪ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, প্রাণহানি এবং মার্কিন সরকারের ওপর চেপে বসা আর্থিক বোঝার চেয়ে এই যুদ্ধ কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।