যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে একটি রেস্তোরাঁয় গুলিতে এক বাংলাদেশি নিহত ও আরেকজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে ব্রাউনসভিল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে রেস্তোরাঁটির মালিক এনবিসি নিউইয়র্ককে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গুলিতে হতাহত দুজনই ‘আমেরিকান বেস্ট উইংস অ্যান্ড পিজ্জা’ রেস্তোরাঁর কর্মচারী ছিলেন।
গুলিতে মাথায় আঘাত পাওয়া ৪৪ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ওয়ান ব্রুকলিন হেলথ-ব্রুকডেল ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ করেনি সংবাদমাধ্যমটি।
তবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পরিচালিত বাংলা সংবাদমাধ্যম ঠিকানার খবরে বলা হয়েছে, নিহত ব্যাক্তির নাম মো. রাজু। তিনি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের কংশনগর গ্রামের বাসিন্দা।
দেশে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তান আছে বলে এনবিসি নিউইয়র্ককে জানিয়েছেন তার সহকর্মী ও বন্ধু আবদুল জলিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের ভাষ্য, এক বন্দুকধারী দোকানে ঢুকে গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন সেখানে কর্মরত রাজুসহ আরেক বাংলাদেশি। গুলি লাগে রাজুর বুকে এবং অপর বাংলাদেশির পায়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে নেওয়া হয় স্থানীয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় রাজুর। তবে চিকিৎসা নেওয়ার পর সুস্থ আছেন আহত আরেক বাংলাদেশি।
আমিশাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘রাজুর মৃত্যুর বিষয়টি শুনেছি। তার মৃত্যুতে গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।’
আহত অন্য ব্যক্তি ৩৯ বছর বয়সী। তার পায়ে গুলি লেগেছে এবং তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ব্রুকলিনের ৮৪২ রকঅ্যাওয়ে অ্যাভিনিউয়ের ওই রেস্তোরাঁর ভেতরেই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে তদন্তকারীদের রক্তসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করতে দেখা যায়। হামলাকারীকে শনাক্ত করতে আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করছে পুলিশ।
রেস্তোরাঁটির মালিক শেখ রাসেল জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি বিনা উসকানিতে ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে। হামলাকারীকে তারা চিনতেন না এবং গুলি চালানোর আগে কোনো ধরনের তর্ক-বিতর্কও হয়নি।
তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তার সঙ্গে রেস্তোরাঁটি পরিচালনায় সহযোগিতা করতেন। তার মৃত্যুতে ব্যক্তিগতভাবেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
নিহতের সহকর্মী ও বন্ধু আবদুল জলিল জানান, নিহত ব্যক্তি অত্যন্ত সৎ মানুষ ছিলেন।
এ ঘটনায় ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় দোকানের ভেতরে এমন সহিংস ঘটনার কথা খুব একটা শোনা যায়নি। রেস্তোরাঁর ভেতরে একজনকে হত্যা করা হয়েছে, ঘটনাটি ভয়াবহ এবং নিহতের পরিবারের জন্য বিষয়টি কতটা কষ্টের, তা কল্পনাও করা কঠিন।
পুলিশ হামলাকারী কে এবং কী কারণে ওই দুই কর্মচারীকে গুলি করা হয়েছে, তা শনাক্তের চেষ্টা করছে বলে এনবিসি নিউইয়র্কের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।