যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়ানোয় পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। দেশটির আশা, ওয়াশিংটনের এই চাপ প্রয়োগের কৌশলকে তাদের মূল বাণিজ্যিক অংশীদারেরা প্রতিরোধ করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গতকাল সোমবার দেওয়া এক বার্তায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন বিধিনিষেধের প্রভাবকে আমলে নিতে চাননি।
তিনি দাবি করেন, অন্য দেশের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।
সোমবার মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের ‘অর্থনৈতিক লাইফলাইন’ বন্ধ করে দেওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ ঘোষণা করার পর গালিবাফ এ মন্তব্য করেন।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই কর্মকর্তা সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ থেকে বিরত থাকেন।
বেসেন্ট বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ডলারের ওপর নির্ভরশীল বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বের করে দেওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে হবে।
ইরানের কোন কোন বাণিজ্যিক অংশীদারকে লক্ষ্য করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা কবে থেকে এসব শাস্তিমূলক পদক্ষেপ কার্যকর হবে, তা জানাতে অস্বীকৃতি জানান বেসেন্ট।
এর পরিবর্তে তিনি বলেন, নতুন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য এসব দেশকে সময় দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় অবশ্য ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তবে তালিকায় চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়নি। ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের তেল বাণিজ্যে সহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে।
ইরান যা বলেছে
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণার পর গালিবাফ বলেন, ‘আমেরিকানরা জানে, তাদের বড় বড় হুমকি কেউ বিশ্বাস করে না। অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই।’
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারেরা সংবাদমাধ্যমে এবং আমাদের কাছে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছে, তারা এসব বক্তব্যকে কোথাও গুরুত্ব দিচ্ছে না।’
ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদেহ বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলায় তেহরান ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে মাদানিজাদেহ বলেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই শত্রুরা আমাদের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসী হামলা চালাতে চায়। কিন্তু আমাদেরও নিজস্ব হাতিয়ার আছে এবং আমরা জানি, কীভাবে এই খেলায় খেলতে হয়।
‘আমাদের প্রতিরক্ষা এখন আর শুধু আত্মরক্ষামূলক নয়। শত্রুদের পাল্টা আক্রমণের জন্য অপেক্ষা করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, চীন বা রাশিয়া কেউই যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ ‘মেনে নেয়নি’। অন্যান্য দেশও এসব পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।