ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গতকাল মঙ্গলবার চীন জানিয়েছে, তারা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করবে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন ‘বেআইনি একপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞার দৃঢ় বিরোধিতা’ করে এবং নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।
তিনি বলেন, চীন ও ইরানের মধ্যকার পারস্পরিক সহযোগিতায় ‘কোনোভাবে হস্তক্ষেপ বা বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয়’।
চীনের এই কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই সংকটের সমাধান হবে না।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের ঘোষিত এই অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মূল লক্ষ্য, ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে তেহরানের সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে তাদের একঘরে করে ফেলা।
মার্কিন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার, যা দেশটির জ্বালানি তেল বহির্ভূত বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। এছাড়া ইরানের তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশই কেনে চীন।
বেইজিংয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে তেহরানের সঙ্গে তাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ৯৬ বিলিয়ন ডলার।
তবে যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা পর্যালোচনা কমিশনের মতে, এই পরিসংখ্যানে সেই বছর চীনে পাঠানো প্রায় ৩১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের অপ্রকাশিত ইরানি অপরিশোধিত তেল রপ্তানির হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও মার্কিন প্রতিশোধের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা বাণিজ্যিক অংশীদারদের মধ্যে রয়েছে চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, ইরাক, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারত, পাকিস্তান এবং রাশিয়া।