নেপালে আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত যে কম্পনের কারণে হয়েছিল, সেটি ভূমিকম্প নয়; বরং ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল। গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি স্পষ্ট করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রথমে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা ওই ভূকম্পন আসলে হিমবাহ ধস ও ধসের সঙ্গে নেমে আসা পাথর-কাদার স্রোত ছিল। এর ফলে ভাটির দিকে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, নেপালের স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে কাঠমান্ডুর উত্তরে নেপাল-চীন সীমান্ত এলাকায় ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে কম্পনটি শনাক্ত করা হয়েছিল।
তবে পরে সংস্থাটি জানায়, প্রথমে ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করা ঘটনাটি আসলে হিমবাহ ধস ও ধসের সঙ্গে নেমে আসা পাথর-কাদার স্রোত।
সংস্থাটি বলেছে, সেখানে কোনো ভূমিকম্প হয়নি।
প্ল্যানেট ল্যাবসের উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবির প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নেপাল-চীনের রসুয়াগাধি সীমান্ত পারাপার বিন্দু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল) উত্তর-পূর্বে লেন্দে নদীতে বরফ ও পাথরের ভয়াবহ ধসের কারণে জলোচ্ছ্বাস ও কাদা-পাথরের পাহাড়ি ঢলের উৎপত্তি হয়।
লেন্দে নদী মূলত চীন থেকে নেপালে প্রবাহিত হওয়া ভোতে কোশি নদীর উপনদী।
এরপর সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ১৬০ জন মানুষ নিহত হন।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই বন্যার কারণ ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী ওই ভূমিধস, যার শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।