নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮৪ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪৮২ জন। কেবল নেপালেই মারা গেছেন ৫৭৯ জন এবং খোঁজ পাওয়া যায়নি ১ হাজার ৯২৪ জনের। অন্যদিকে তিব্বতে পাঁচজনের মৃত্যু ও ৫৫৮ জন নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
তবে নিখোঁজের প্রকৃত সংখ্যা এখনো পরিবর্তনশীল। নেপাল পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিদের যে তালিকা করেছে, সেখানে সংখ্যা আরও বেশি। পাশাপাশি সুড়ঙ্গে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
অনেক মানুষ এখনো দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েছেন অথবা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শুক্রবার ভোতে কোশি নদীতে সৃষ্ট একটি অস্থিতিশীল হ্রদ উপচে পড়ায় নদীতে পানির নতুন ঢল নামে। এতে সীমান্তের দুই পাশে উদ্ধারকারী দলগুলোকে বারবার উদ্ধার অভিযান স্থগিত করে পিছু হটতে হয়। কিছু সময়ের জন্য উদ্ধারকাজ পুরোপুরি বন্ধও হয়ে যায়।
এর কয়েক ঘণ্টা পর আরেকটি তুষারধসে আনুমানিক ৫০ হাজার ঘনমিটার বরফ ও ধ্বংসাবশেষ নেমে আসে। পরে স্যাটেলাইটে পাওয়া ছবিতে আরও উদ্বেগজনক একটি বিষয় ধরা পড়ে। উজানে থাকা আরেকটি আরও বড় হ্রদের পানি ক্রমেই বাড়ছে এবং সেটির পানি বের হওয়ার কোনো দৃশ্যমান পথ নেই।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল শুক্রবার জানান, নেপালে থাকা ৩২০ ভারতীয় নাগরিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। এর আগে এই সংখ্যা ছিল ২৯০।
এছাড়া অন্যান্য দেশের নাগরিকত্বধারী প্রায় ১০০ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
জয়সোয়াল বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোনো ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি দিল্লি। নেপালি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।