ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনাসহ সাম্প্রতিক নানা ইস্যুতে ঢাকা–দিল্লি সম্পর্কের টানাপড়েন নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের আগ্রহ প্রকাশ করেছে ভারত। দেশটির কংগ্রেস এমপি ও পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি শশী থারুর এ কথা জানান।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
শশী থারুর বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে মোকাবিলা করা প্রয়োজন। তিনি চলমান অস্থিরতায় সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি দুদেশের মধ্যকার সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় রাখার অনুরোধ করেন।
২০২৪ সালে ছাত্র–জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের মধ্যে স্পষ্ট টানাপড়েন দেখা দেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার পর সেই উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে।
শশী থারুর জানান, চলমান সংকট নিরসনে বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সংলাপে বসতে চায় ভারত। একই সঙ্গে তিনি ভিসা সেন্টার অভিমুখী বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এতে ভারতে যেতে ইচ্ছুক সাধারণ বাংলাদেশিরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি আশা করছেন শীঘ্রই দুদেশের সম্পর্কে স্বাভাবিকীকরণ ঘটবে। একই সঙ্গে শশী বলেন, আমি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারকে তাদের প্রতিবেশীর (ভারত) সঙ্গে এই ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উপর আরও বেশি মূল্য দেওয়ার আহ্বান জানাব।’
এর আগে শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় কমিটি মন্তব্য করে, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য ১৯৭১ সালের চেয়েও বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। কমিটির আশঙ্কা, কৌশলগত কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে ঢাকায় দিল্লির প্রভাব ও প্রাসঙ্গিকতা ক্ষয় হতে পারে। এ বিষয়ে ভারত সরকারকে একাধিক সুপারিশও করেছে কমিটি।
ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান প্রসঙ্গে সংসদীয় স্থায়ী কমিটি দাবি করেছে, তাকে কেবল মানবিক বিবেচনায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়, শেখ হাসিনা নিজস্ব ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার করে বক্তব্য দিচ্ছেন।