নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার আগেই ইরানে হামলা চালিয়ে চমকে দিল
মার্কিন প্রশাসন ইরানকে সর্বোচ্চ সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিল যে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে তাদের সময় লাগবে দুই সপ্তাহ। অথচ এই ঘোষণার মাত্র দুই দিনের মাথায় ইরানের অন্তত ১০টি সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় একযোগে হামলা চালানো হয়। এই হামলার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে, হোয়াইট হাউসের ঘোষণার অন্তরালে ছিল একটি দ্রুতগতির ও কৌশলগত সামরিক পরিকল্পনা। হামলার সময় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও নিরাপত্তা পরিষদ অপেক্ষমাণ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের, তখনই আচমকা শুরু হয় সামরিক অভিযান।
হামলার ধরন ও অবস্থান:
স্থানীয় সময় রাত দেড়টার দিকে ইরানের হরমোজগান, ইয়াজদ, কোম এবং খুজেস্তানে ড্রোন ও ট্যাকটিক্যাল বোমার মাধ্যমে হামলা চালানো হয়। লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের বিপ্লবী গার্ডের ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার ও গোয়েন্দা কেন্দ্র। এতে অন্তত ২১ জন আহত হয় এবং কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয় বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
ইরানের প্রতিক্রিয়া:
ইরান একে “অবৈধ যুদ্ধ ঘোষণা” বলে অভিহিত করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন,
“এই হামলা প্রমাণ করে, আমেরিকা শান্তি চায় না বরং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিই তাদের লক্ষ্য।”
তিনি আরও জানান, প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া:
বিশ্লেষক মন্তব্য:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের কৌশল ছিল দ্বিমুখী—একদিকে সময় নেওয়ার ভান করে আন্তর্জাতিক চাপ এড়ানো, অন্যদিকে ইরানকে অপ্রস্তুত অবস্থায় সামরিকভাবে আঘাত হানা। এটি ভূরাজনীতিতে “স্ট্র্যাটেজিক ডিকয়” বা কৌশলগত প্রতারণার একটি ক্লাসিক উদাহরণ।
এই হামলার মাধ্যমে আবারও প্রমাণিত হলো, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ঘোষণার আড়ালে কার্যকর পদক্ষেপ অনেক সময় দ্রুত ও অপ্রত্যাশিত হতে পারে। ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।