শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে একাধিকবার প্রকাশ্যে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো। শুধু ভেনেজুয়েলার জনগণের পক্ষ থেকেই নয়, নোবেল পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিও। এবার সেই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গেই ভাগ করে নিতে চান বলে জানিয়েছেন মাচাদো।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। ফক্স নিউজের উপস্থাপক শন হ্যানিটির সঙ্গে আলাপে মাচাদো বলেন, ভেনেজুয়েলার জনগণ মনে করে, এই নোবেল শান্তি পুরস্কারটি ট্রাম্পের সঙ্গেই ভাগ করে নেওয়া উচিত।
মাচাদোর এই বক্তব্য এমন এক সময় সামনে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী নেতা হিসেবে সমর্থন দিচ্ছেন না। একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমের দাবি, শুরুতেই যদি মাচাদো নোবেল পুরস্কারটি ট্রাম্পকে দিয়ে দিতেন, তবে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করার পর ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেন, মাচাদোর মধ্যে দেশ পরিচালনার মতো যথেষ্ট নেতৃত্বগুণ নেই। এই মন্তব্যে ভেনেজুয়েলার বিরোধী শিবির বিস্মিত হয় বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, মাচাদোর নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণ করাই ট্রাম্পের চোখে ছিল তার সবচেয়ে বড় ভুল। কারণ ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন।
ওয়াশিংটন পোস্টের সূত্রে জানা যায়, যদি মাচাদো পুরস্কারটি প্রত্যাখ্যান করে বলতেন—‘আমি এটি গ্রহণ করতে পারি না, এটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাপ্য’—তাহলে আজ তিনিই ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হতে পারতেন।
ফক্স নিউজের সাক্ষাৎকারে শন হ্যানিটি প্রশ্ন তোলেন, মাদুরোর পতনের পর ভেনেজুয়েলার নেতৃত্ব কার হাতে যাবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দলের প্রাইমারিতে ৯২ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হলেও মাচাদোকে নির্বাচনের বাইরে রাখা হয়েছিল।
জবাবে মাচাদো বলেন, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর জানার পরই তিনি সেটি ট্রাম্পকে উৎসর্গ করেছিলেন। তার ভাষায়, ৩ জানুয়ারি এমন একটি দিন, যা ইতিহাসে লেখা থাকবে—যেদিন ন্যায়বিচার অত্যাচারের বিরুদ্ধে জয়ী হয়েছে।
মাচাদো আরও বলেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত শুধু ভেনেজুয়েলাকে স্বাধীনতার কাছাকাছি আনেনি, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেও আরও নিরাপদ করেছে। সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে মাচাদো জানান, এখনো সরাসরি ট্রাম্পকে নোবেল ভাগাভাগির প্রস্তাব দেননি, তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তা জানাতে চান।