ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পর, তার আক্রমণ চালানোর ক্ষমতা সীমিত করতে এগিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে ৫২–৪৭ ভোটে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উচ্চকক্ষটি। এ জন্য প্রয়োজন ছিল ৫১ ভোট।
এর আগে একই ধরনের দুটি উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছিল। তবে এবার ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি পাঁচজন রিপাবলিকান সিনেটর প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দেন। পক্ষে থাকা রিপাবলিকানদের মধ্যে রয়েছেন ইন্ডিয়ানার টড ইয়ং, আলাস্কার লিসা মারকোস্কি, মেইনের সুসান কলিন্স, কেন্টাকির র্যান্ড পল এবং মিসৌরির জশ হাওলি।
এই ভোটাভুটির কয়েক দিন আগেই যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় এক রাতের অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে। মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে তাদের নিউ ইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। হঠাৎ এই অভিযানে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশাপাশি কংগ্রেসও বিস্মিত হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ভার্জিনিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর টিম কেইন। তিনি ডিসেম্বরের শুরুতে প্রস্তাবটি আনেন। এতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরে বা দেশটির বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের যুদ্ধ থেকে মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীকে প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।
বুধবার সিনেট ফ্লোরে বক্তব্য দিতে গিয়ে টিম কেইন বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন ইঙ্গিত থেকে বোঝা যাচ্ছে, বিষয়টি কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার ভাষায়, এটি ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি দখলদারত্ব ও সম্পৃক্ততার দিকে নিয়ে যেতে পারে।
মাদুরোকে আটক করার অভিযানের প্রসঙ্গে কেইন বলেন, এটি কোনো সাধারণ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার বিষয় নয়। তিনি আরও বলেন, ‘এটি তার চেয়েও অনেক বড়’।
সিনেটের এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূ্ত্র: সিবিএস নিউজ