যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে আবারও গুলিতে একজন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করছে সেখানকার মানুষ। অঙ্গরাজ্যের গভর্নর টিম ওয়ালজ সেখান থেকে ফেডারেল এজেন্টদের সরিয়ে নিতে আবারও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমেরিকানদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘এটি একটি সন্ধিক্ষণ।’
অন্যদিকে নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সোশ্যাল ট্রুথে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ওয়ালজ ও মিনিয়াপোলিসের মেয়র জেকব ফ্রের উচিত ‘অঙ্গরাজ্যের কারাগারে থাকা সব বন্দিকে দেশ থেকে বহিষ্কারের জন্য কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া।’
আবার শনিবার অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনার আগ মুহূর্তে যা ঘটেছে তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে অঙ্গরাজ্য ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের দিক থেকে। গুলির যেসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সেসব বিষয়ে জানতে চাইলে বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো বলেছেন, সত্য উদঘাটনের জন্য তদন্ত হওয়া দরকার।
প্রেট্টি ছিলেন পেশায় নার্স এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। তাকে একজন ‘ভালো মনের মানুষ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তার মা-বাবা। মিনেসোটা ইউনিভার্সিটি এক বিবৃতিতে প্রেট্টির মৃত্যুকে ‘কমিউনিটির জন্য খুবই কষ্টের সময়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। ওই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই গ্র্যাজুয়েশন করেছিলেন তিনি। বিবৃতিতে পরিবার ও প্রিয়জনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘তিনি এমন একটি পেশায় কাজ করতেন, যার মূল ভিত্তিই ছিল যত্ন, সহমর্মিতা আর সেবা।’
ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগ
এদিকে অ্যালেক্স প্রেট্টির গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার গ্রেইগ বভিনো ও অন্য ফেডারেল কর্মকর্তাদের করা কিছু মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস (ডিওসি)।
বভিনো বলেছেন, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট এজেন্টরা অভিযানের সময় সময় হোসে হুয়র্তা চুমাকে খুঁজছিল, যার বিরুদ্ধে অপরাধের ইতিহাস রয়েছে। তিনি চুমার বিরুদ্ধে ডোমেস্টিক অ্যাসল্ট, ইচ্ছাকৃত শারীরিক আঘাত ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মতো অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেছিলেন।
এক বিবৃতিতে ডিওসি বলেছেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা বারবার অঙ্গরাজ্যের কাস্টডি ও অপরাধ রেকর্ড বিষয়ে ভুল তথ্য দিচ্ছে। তারা বলছেন, চুমার সঙ্গে অঙ্গরাজ্যের কাস্টডির কোনো সম্পর্ক ছিলো না।
তারা বলছেন, ফেডারেল কর্মকর্তারা যাকে চিহ্নিত করেছেন, তিনি কখনোই অঙ্গরাজ্যের কাস্টডি বা হেফাজতে ছিলেন না। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে কোনো দণ্ড নির্দেশনারও রেকর্ড নেই। এ ছাড়া ওই ব্যক্তি এখন ডিওসির নজরদারিতেও নেই।
এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার প্যাট্রল কমান্ডার বভিনো জানিয়েছেন, শনিবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব এজেন্ট এখনো কাজ করছেন, যদিও তাদের মিনিয়াপোলিস থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘এটি তাদের নিরাপত্তার জন্য করা হয়েছে।’
এক সাংবাদিক বভিনোকে প্রশ্ন করেন, এই মাসেই মিনিয়াপোলিসে দুটি মৃত্যুর দায় তিনি নিচ্ছেন কিনা। জবাবে তিনি বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের সময় যারা বাধা তৈরি করেছে তাদের কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।
আইসিএ এজেন্ট নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য
ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপলিস থেকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্টরা সময় মতো ছেড়ে যাবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। সাক্ষাৎকারটি রবিবার প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে আমরা সরে আসব। তারা চমৎকার কাজ করেছে।’তবে কখন তারা সরে যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু তিনি জানাননি।
ট্রাম্প আরও বলেন, মিনিয়াপোলিসে অ্যালেক্স প্রেট্টির হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রশাসন ‘সব কিছু পর্যালোচনা করছে।’
এদিকে বিবিসির একজন সংবাদদাতা বলছেন, এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের দলের মধ্যেই বিভক্তি দেখা দিয়েছে। কিছু রিপাবলিকান ফেডারেল এজেন্টদের দ্বারা এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তারা বলছেন, এটি একটি উদাহরণ, যেখানে রাষ্ট্র একজন আমেরিকান নাগরিকের অস্ত্র রাখার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
অন্যদিকে সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের খবরও পাওয়া যাচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, অভিবাসন কর্মকর্তারা মিনিয়াপোলিস না ছেড়ে যাওয়া পর্যন্ত তারা তাদের প্রতিবাদ বন্ধ করবেন না। স্থানীয় সিটি সেন্টারের সামনে ফেডারেল এজেন্ট বিরোধী বিক্ষোভে বহু মানুষ অংশ নিয়েছে। তারা আইসিই বিরোধী শ্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই এলাকার সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী যানবাহনগুলো হর্ন বাজিয়ে বিক্ষোভের প্রতি তাদের সমর্থন জানায়।