ভারতে নিপা ভাইরাস
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে থাইল্যান্ড ও নেপালের মতো দেশগুলো তাদের বিমানবন্দরগুলোতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু করেছে ও নজরদারি কঠোর করেছে। ভারতের সঙ্গে এই দেশগুলোর সীমান্তের বিভিন্ন স্থানেও নেওয়া হয়েছে একই ব্যবস্থা।
বিবিসি জনায়, জানুয়ারির শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের বারাসতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের ৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে ২ জন নার্সের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও তারা বর্তমানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১৯০ জনকে ইতিমধ্যে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।
নিপা ভাইরাস হল সেই ভাইরাস, যাতে আক্রান্তদের মৃত্যুহার ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হয়। এই ভাইরাসের কোনও টিকা বা সুনির্দিষ্ট কোনও চিকিৎসা নেই। এই ভাইরাস প্রাণী থেকে মানুষে এবং মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। সেকারণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও একে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ও মহামারী ছড়ানোর ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাস হিসেবে গণ্য করে।
থাইল্যান্ডের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, রোববার (২৫ জানুয়ারি) থেকে ব্যাংকক ও ফুকেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা সব যাত্রীর তাপমাত্রা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যগত তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।
থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি ও ডন মুয়াং বিমানবন্দরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা জোরদার করা হয়েছে। যাত্রীদের জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য লক্ষণের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাত্রীদের বিশেষ ‘হেলথ অ্যাডভাইজরি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে যাত্রীদের কোয়ারেন্টিনেও রাখা হতে পারে।
নেপালও ভারত সংলগ্ন সীমান্ত ও ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নজরদারি বাড়িয়েছে। স্বাস্থ্য ডেস্ক তৈরি করা হয়েছে এবং হাসপাতালগুলোকে সামান্য সন্দেহ হলেই সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্ট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারত-নেপাল সীমান্তে ক্রমাগত মানুষ চলাচল নিয়ে নেপাল সরকার বিশেষভাবে চিন্তিত।
তাইওয়ানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপা ভাইরাসকে সবচেয়ে বিপজ্জনক শ্রেণী ‘ক্যাটাগরি-৫ ডিজিজ’ হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মানে, যদি আক্রান্ত কাউকে পাওয়া যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে রিপোর্টিং, আইসোলেশনের মতো জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিপা ভাইরাস কী?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, নিপা একটি জুনোটিক ভাইরাস, যা মূলত ফলখেকো বাদুড় বা শুকরের মাধ্যমে মানুষের দেহে প্রবেশ করে। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ বা দূষিত খাবারের মাধ্যমেও এটি ছড়াতে পারে।
লক্ষণ: প্রাথমিক পর্যায়ে জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাব ও গলাব্যথা দেখা দেয়। অবস্থার অবনতি হলে এনসেফেলাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ), খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে।
ঝুঁকি: এই ভাইরাসে মৃত্যুহার অনেক বেশি। বর্তমানে নিপা ভাইরাসের কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই। অনেক সময় রোগীর মধ্যে প্রথমে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না, যা সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২০০১ ও ২০০৭ সালেও নিপা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। এ ছাড়া ভারতের কেরালা রাজ্যে গত কয়েক বছরে প্রায় নিয়মিত এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটছে।