ডিবি পরিচয়ে অপহরণ
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে অপহরণের শিকার এক মাছ ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করতে গিয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনার উন্মোচন করেছে পুলিশ। এক ভুক্তভোগীর সন্ধানে নেমে একই অপহরণকারী চক্রের ডেরা থেকে আরও তিন বন্দিকে উদ্ধার করেছে তারা। এই অভিযানে চক্রের মূলহোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।
সোমবার (৪ মে) বিকেলে মোহাম্মদপুর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, অপহরণকারী চক্রের মূলহোতা মিজানুর রহমান রিপন ও তার সহযোগী আল ওয়াজেদ ফয়সাল। আর উদ্ধার হওয়া চার ভুক্তভোগী হলেন, সোহেল, সেলিম, সাইফুল ও আলী আহমেদ।
পুলিশ জানায়, গত রোববার (৩ মে) মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং বেড়িবাঁধ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে এক-একে চারজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। মাছ ব্যবসায়ী সেলিম ও সোহেল ভোরে বেড়িবাঁধ এলাকায় মাছ কিনতে গেলে ডিবি পরিচয়ে তাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাদের মারধর করে প্রত্যেকের পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
ভুক্তভোগী আলী আহমেদকে রাত ১১টার দিকে ডিবি পরিচয়ে ফোন করে বাসা থেকে বের হতে বলা হয়। পরে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে বসিলা এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতভর ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হয়। অভিযানের এক পর্যায়ে বাড্ডা ও গাজীপুর এলাকা থেকে চার ভুক্তভোগীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় চক্রের মূলহোতা রিপন ও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভুক্তভোগীদের পরিবার জানায়, বিকাশ ও অন্যান্য মাধ্যমে অপহরণকারীদের ২০ হাজার টাকা পাঠানোর পর তারা আরও মুক্তিপণের জন্য চাপ দিচ্ছিল।
এডিসি জুয়েল রানা জানান, তথ্য পাওয়ার পর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে রাতভর অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পরিচয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও এ ধরনের ভুয়া ডিবির দৌরাত্ম্য বন্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।