পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজধানীতে কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
ঈদের দিন ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। এ লক্ষ্যে ১৬ হাজার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও সাড়ে ৭ শতাধিক বর্জ্যবাহী ট্রাক মাঠপর্যায়ে কাজ করবে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি নগর ভবনে আয়োজিত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় এ ঘোষণা দেন ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসি প্রশাসক।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দেশের কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে, সিটি কর্পোরেশনগুলোকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডিএনসিসির প্রস্তুতি অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমি বিশ্বাস করি, নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।’
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘অতিবৃষ্টিজনিত সাময়িক জলজট দ্রুত নিরসনে কুইক রেসপন্স টিম ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
সভায় ডিএনসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ, নির্ধারিত ১২ ঘণ্টার আগেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বর্জ্য অপসারণ শেষ করতে সক্ষম হব।’
বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও ডাম্পিং কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু রাখা হয়েছে, যাতে বর্জ্যবাহী গাড়ির কার্যক্রম সার্বক্ষণিক তদারকি করা যায়।
ডিএনসিসি জানিয়েছে, নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন সরবরাহ করা হয়েছে, যাতে কোরবানির পর দ্রুত জীবাণুমুক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে নগরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচার, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ ও মোবাইল এসএমএস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমও চালানো হচ্ছে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন—ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী ও প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।