দীর্ঘ প্রায় তিন মাস সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন থাকার পর ইরানে সচল হতে শুরু করেছে ইন্টারনেট সেবা। দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২৬ মে) এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সাইবার জগতে অবাধ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া হলো।’
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা নেটব্লকস ও কেন্টিকও এদিন দুপুর ১টার দিকে ইরানে ইন্টারনেট ‘আংশিক’ সচল হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। তবে কেন্টিক জানিয়েছে, দেশটির বেশিরভাগ নেটওয়ার্ক এখনও ডাউন রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরুর পরপরই দেশটির সরকার ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।
এর পক্ষে যুক্তি হিসেবে ইরানের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নজরদারি, গোয়েন্দাগিরি এবং বড় ধরনের সাইবার হামলা ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্বের ইতিহাসে এটি অন্যতম দীর্ঘ ইন্টারনেট শাটডাউন। অবশ্য ৮৮ দিন পর ইরানে ইন্টারনেট সচল হওয়ার এই প্রক্রিয়া ‘স্থায়ী’ হবে কি না, তা এখনও ‘অস্পষ্ট’ বলে জানিয়েছে নেটব্লকস।
এর আগে বিবিসি ভেরিফাইকে নেটব্লকসের গবেষণা পরিচালক ইসিক মাতার বলেছিলেন, ‘ইরানের অতীতের ডিজিটাল ব্ল্যাকআউটগুলো থেকে আমরা দেখেছি, ইন্টারনেট পুরোপুরি সচল হওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েক ঘণ্টা সময় নিতে পারে। এটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার প্রক্রিয়ার মতো অতটা দ্রুত হয় না।’
এ বছরের জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমনের সময় ইন্টারনেট শাটডাউন করে ইরান সরকার।
সেই ধকল কাটিয়ে ইরানিরা বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত হওয়ার এক মাসের মাথায় মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা শুরু হয় এবং আবারও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়।