রাজধানীর মগবাজারের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ঈদের আগের দিন বুধবার (২৭ মে) ভোরে ‘পোস্ট অপারেটিভ’ ওয়ার্ডে ছয়টি শিশুর হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনায় দেশব্যাপী গভীর উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলায় এই গণমৃত্যুর দায় কার, তা নিয়ে যখন চারদিকে তোলপাড়, ঠিক তখনই তড়িঘড়ি করে পাল্টা তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের মিশনে নেমেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সরকারি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দল যেখানে ঘটনার গভীরে যেতে আরও সময় চেয়েছে, সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রোববার (৩১ মে) তড়িঘড়ি করে নিজস্ব প্রতিবেদন প্রকাশের ঘোষণা নানা সন্দেহের জন্ম দিচ্ছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয়শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের গঠিত নিজস্ব তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন রোববার দুপুরের পর প্রকাশ করতে যাচ্ছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালের এইচ আর অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স পরিচালক তরিকুল ইসলাম মুকুল বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দুপুরের পর সংবাদ সম্মেলন করে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সচেতন মহলের প্রশ্ন, যেখানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি তদন্ত দল এখনো ঘটনার মূল কারণ উদঘাটনে কাজ করছে, সেখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এই তড়িঘড়ি রিপোর্ট কি নিজেদের কর্মকর্তাদের নির্দোষ প্রমাণ করার এবং মামলার সুতো কাটার একটি পূর্বপরিকল্পিত ছক?
অন্যদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তে অনড় সরকার। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শনিবার স্পষ্ট জানিয়েছেন, আসল সত্য এবং নিখুঁত প্রতিবেদন পেতে আরও দুই-তিন দিন সময় লাগবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছি। তাদের পর্যবেক্ষণ দেখেছি। তবে এই ঘটনায় যাদের বাচ্চারা মারা গেছে, তাদের সবার সঙ্গে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে কথা বলতে পারেনি তদন্ত কমিটি। এমন একটি প্রতিবেদন চাই যেখানে কোনো ঘাটতি বা লুকুচুরি থাকবে না। তাই এই প্রতিবেদনে মৃত শিশুদের মায়েদের বক্তব্য নেওয়া খুবই জরুরি।’
যেহেতু সন্তানহারা মায়েরা বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করছেন, তাই তাদের সাথে সশরীরে কথা বলতে আরও সময় লাগবে। এই কারণে সরকারি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত প্রতিবেদন জমার চূড়ান্ত তারিখ আগামী ৩ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে।
ছয় শিশুর মৃত্যুর ঘটনার ঠিক পরদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটিকে পরের তিন দিনের মধ্যে শিশুদের মৃত্যুর আসল কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অঘটন রোধে করণীয় নির্ধারণ করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ইতিমধ্যেই এই মর্মান্তিক ঘটনায় রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলনে কোন জাদুকরি প্রতিবেদন হাজির করে- সেদিকেই চোখ রাখছে পুরো দেশ।