রাজধানীর মিরপুর রোডে তিতাস গ্যাসের ফেটে যাওয়া ভালভ পরিবর্তন করে নতুন ভালভ বসানো হয়েছে। এরপর ওই এলাকার পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু করেছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি। তবে গ্যাসের স্বল্পচাপ পরিস্থিতির উন্নতি হতে আরও কয়েক ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। ধীরে ধীরে চাপ বাড়লে গ্যাসের প্রবাহ স্বাভাবিক হতে পারে।
শনিবার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ভালভ দিয়ে পাইপলাইন গ্যাসের প্রবাহ নিশ্চিত করা হয়। প্রয়োজনে বাড়ানো বা কমানো যায়। এটি বিতরণ লাইনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট পয়েন্টে থাকে।
দুই সপ্তাহ ধরে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সংকট রাজধানীতে। ৪ জানুয়ারি ঢাকার আমিনবাজারে পাইপলাইন ছিদ্র হওয়ায় এক সপ্তাহ ধরে কম চাপে গ্যাস পাচ্ছেন ঢাকাবাসী। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। এর মধ্যে শনিবার আবার নতুন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে গ্যাসের চাপ আরও বেশি কমে যায়।
শনিবার সকালে তিতাসের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মিরপুর রোডে গণভবনের সামনে চার ইঞ্চি ব্যাসের ভালভ ফেটে ছিদ্র তৈরি হয়েছে। এটি মেরামতের জন্য বেশ কয়েকটি ভালভ বন্ধ করায় বিতরণ লাইনে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। বিতরণ লাইনে চাপ সীমিত করায় ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, গাবতলী সংলগ্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ রয়েছে।
এর আগে, আমিনবাজারে পাইপলাইনের ছিদ্র মেরামত করা হলেও পাইপলাইনের পানি পুরোপুরি পরিষ্কার করা যায়নি। এতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে। এর মধ্যে নতুন দুর্ঘটনায় গ্যাস সরবরাহ আরও কমে যায় বলে যায়।
তিতাস বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে গ্যাসের পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সরবরাহ একেবারেই কমে গেছে। কোনো কোনো এলাকায় চুলাই জ্বলছে না। ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে।
ঢাকায় রান্নার জ্বালানির উৎস মূলত দুটি, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির পাইপলাইনে সরবরাহ করা প্রাকৃতিক গ্যাস ও অন্যটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিক্রি করা তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি), যা সাধারণত সিলিন্ডারে বিক্রি করা হয়। সংকট চলছে দুই ক্ষেত্রেই।
দুই ধরনের গ্যাস-সংকট একসঙ্গে শুরু হওয়ায় অনেক জায়গায় মানুষ রান্না করতে পারছেন না। যারা সচ্ছল, তারা বৈদ্যুতিক চুলা কিনে নিচ্ছেন। কেউ কেউ রাইসকুকারে ভাত রান্না করে তরকারি রেস্তোরা থেকে কিনে আনছেন। তবে বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ। তাদের পক্ষে বৈদ্যুতিক চুলা অথবা রাইসকুকার কেনা কঠিন।