রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম রাঙ্গুনিয়ার লিচুবাগান ফেরিঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকেরা। কর্ণফুলী নদীর উপর এখনো কোনো সেতু নির্মাণ না হওয়ায় প্রায় চার দশক ধরে একটি মাত্র ফেরির ওপর নির্ভর করেই পারাপার করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।
খরস্রোতা কর্ণফুলী নদী রাঙামাটি ও বান্দরবান জেলাকে বিভক্ত করেছে। এ নদী পার হতে লিচুবাগান ফেরিঘাটই স্থানীয়দের প্রধান ভরসা। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ফেরি চলাচল করলেও একটিমাত্র ফেরি থাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। কোনো কারণে ফেরি চলাচলে বিলম্ব হলে ঝুঁকি নিয়ে ছোট সাম্পানে নদী পার হতে বাধ্য হন অনেকেই।
বর্ষা মৌসুমে জোয়ারের পানিতে ফেরির পন্টনের একটি অংশ ডুবে যায়। তখন সেই ডুবে যাওয়া পন্টন দিয়েই মানুষ ও গাড়িকে ফেরিতে উঠতে হয়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি অনেক সময় গাড়ির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়ে। আবার শুষ্ক মৌসুমে নদীতে ডুবচর তৈরি হওয়ায় ফেরি পন্টনে ভিড়তে পারে না, ফলে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। এতে শিক্ষার্থী, চালক, পর্যটকসহ স্থানীয়দের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
জানা যায়, ১৯৮৬ সালে কর্ণফুলী নদীর লিচুবাগান এলাকায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ফেরি চালু করলেও ফেরিঘাটটির তদারকি ও পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগ। প্রায় ৪০ বছর ধরে এই ফেরির ওপর নির্ভর করেই চলাচল করছে পার্বত্য অঞ্চলের হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বহু বছর ধরে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। কখনও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি বা বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, এতে ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
রাঙামাটিতে ঘুরতে আসা পর্যটক নাজমুল হাসান বলেন, বন্ধুদের নিয়ে রাঙামাটি ভ্রমণে এসেছি। কিন্তু ফেরিঘাটে এসে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এখানে একটি সেতু থাকলে যাতায়াত অনেক সহজ হতো।
ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ মাইক্রোবাস চালক সেলিম উদ্দিন বলেন, দুই থেকে তিন ঘণ্টা ধরে বসে আছি, এখনও ফেরি পার হতে পারিনি।
বাসচালক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, রাঙামাটি ও বান্দরবান থেকে যাত্রী নিয়ে এসে প্রায়ই দীর্ঘ সময় ফেরিঘাটে অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত একটি সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের মতো চালকদের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এ বিষয়ে রাঙামাটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, লিচুবাগান এলাকায় সেতু নির্মাণের জন্য সমীক্ষা ও নকশা তৈরির কাজ শেষ হলে চলতি বছরই প্রকল্পটি অনুমোদন পেতে পারে।
সড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এই ফেরিঘাট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার যানবাহন পারাপার হয়।
স্থানীয়দের আশা, দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত লিচুবাগান ফেরিঘাটে একটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে শুধু যাত্রীদের দুর্ভোগই কমবে না, বরং রাঙামাটি, বান্দরবান ও আশপাশের অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও পর্যটন শিল্প আরও গতিশীল হবে।