সৌদি সরকার কর্তৃক এতিম শিশুদের জন্য পাঠানো উপহারের খেজুর ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে বরাদ্দ দেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সরকারি বিধি ভেঙে এতিমের হক রাজনৈতিক নেতাকে দেওয়ার এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে খোদ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে।
বেগমগঞ্জ উপজেলা গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন মিন্টু মঙ্গলবার রাতে তার নিজ ফেসবুক আইডি থেকে এই পোস্টটি শেয়ার করেন। সেখানে দেখা যায় কালিকাপুর এমদাদুল উলূম ক্বওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা ২ কেজি, ছোবহান মার্কেট আশরাফিয়া নুরানিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ২ কেজি, মাদরাসাতুল রহমান আল-আরাবিয়্যাহ ২ কেজি ও হাবিবুর রহমান (সভাপতি, ২নং গোপালপুর ইউনিয়ন, বিএনপি) ২ কেজি বরাদ্দ দিতে দেখা যায়।
জানা গেছে, সৌদি সরকার কর্তৃক এতিমদের জন্য বরাদ্দকৃত খেজুর উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণের জন্য পাঠানো হয়। নিয়ম অনুযায়ী এই খেজুর স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থ এতিমদের মাঝে বিতরণ করার কথা। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিন্টু সেই তালিকা থেকে ২ কেজি খেজুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানকে বরাদ্দ দেন।
বিষয়টি গোপন না রেখে চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন মিন্টু তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে স্বাক্ষরিত একটি বরাদ্দপত্র প্রকাশ করেন। সেখানে স্পষ্ট দেখা যায়, এতিমদের জন্য আসা ওই খেজুরে হাবিবুর রহমানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
চেয়ারম্যানের প্যাডে লিখিত এই বরাদ্দের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পরপরই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ফেসবুকে পোস্টটি শেয়ার হওয়ার পর থেকেই সাধারণ ব্যবহারকারীরা মন্তব্য করছেন যে, এটি কেবল নীতিবহির্ভূতই নয়, বরং নৈতিকতারও পরিপন্থী। অনেকেই বিষয়টিকে ‘দরিদ্র ও এতিমদের হক কেড়ে নেওয়া’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি ত্রাণ বা উপহার বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি।
বরাদ্দকৃত খেজুরের বিষয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ‘আসলে আমি জানি না এটা কিসের খেজুর। সম্ভবত আমাকে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে।’
এই বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল জানান, ‘আমাদের সামনে চেয়ারম্যান ওনাকে ২ কেজি খেজুর দেন। তিনি তা রিসিভ করে উনার সঙ্গে থাকা এক ছেলেকে দিয়ে দেন।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাইসুর রহমানের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, আসলে এই ধরনের বিষয়টি নিয়ে থাকলোও তিনি এতিমদের মাঝে দিয়েছেন কিনা সে বিষয়টি আসলে জানা দরকার। সরাসরি কারো নামে দেওয়ার নিয়ম নেই।
তবে স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও এতিমদের হক সঠিক জায়গায় পৌঁছানোর দাবি জানিয়েছেন।