বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরায় আয়োজিত বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও বিসিকের যৌথ উদ্যোগে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক প্রাঙ্গণে চলমান সাত দিনব্যাপী এই মেলার পঞ্চম দিনে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন সড়কে মানুষের ঢল নামে মেলাকে ঘিরে। তবে বিকেল ও সন্ধ্যায় ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে মেলায় এসে কেনাকাটার পাশাপাশি উপভোগ করছেন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রঙিন স্টল, দেশীয় পণ্য ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহারে মেলাটি হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ।
রোববার মেলা প্রাঙ্গণে গিয়ে দেখা যায়, সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা প্রাঙ্গণ মুখরিত। এতে উদ্যোক্তাদের বেচাকেনাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশেষ করে হাতে তৈরি পোশাক, মাটির তৈরি জিনিসপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, পাট ও বাঁশের তৈরি পণ্য এবং শিশুদের খেলনার চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি।
মেলায় অংশ নেওয়া স্থানীয় উদ্যোক্তা নূর জাহান বলেন,নববর্ষ উপলক্ষে মানুষের উপস্থিতি অনেক বেশি। বিকেলের পর থেকে স্টলে ভিড় বাড়ে, বিশেষ করে নারীদের পণ্য ও হাতে তৈরি পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।
তবে ঢাকা থেকে আসা ‘নাহার কালেকশন’-এর উদ্যোক্তা সামছুন্নাহার জানান, মেলায় প্রচুর ভিড় থাকলেও দূর থেকে আসার কারণে খরচ ওঠানো কিছুটা কঠিন। তবুও সাতক্ষীরার বাজার সম্পর্কে ধারণা নিতেই তার এই অংশগ্রহণ।
পরিবার নিয়ে মেলায় আসা দর্শনার্থী মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রতি বছরই আমরা পরিবার নিয়ে মেলায় আসি। শিশুদের আনন্দ দেখতেই সবচেয়ে ভালো লাগে। এছাড়া অনেক দেশীয় পণ্য এক জায়গায় পাওয়া যায়।’
আরেক দর্শনার্থী সাজেদুল ইসলাম মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজনের অংশ হিসেবেই এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’