চাঁপাইনবাবগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দিবাগত রাতে জেলার পাঁচটি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আম বাগান, যা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগান মালিক ও কৃষকরা।
শনিবার রাত সোয়া ১২টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়-বৃষ্টি প্রায় আধাঘণ্টা স্থায়ী হয়। ঝড়ের তীব্রতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গাছের ডাল ভেঙে পড়ে এবং অনেক স্থানে উপড়ে পড়ে বড় গাছ। এতে বিপুল পরিমাণ কাঁচা আম ঝরে পড়ে। অনেক বাগানে লিচুর গুটিও ঝরে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সদর, শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, নাচোল ও ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, মৌসুমের শুরুতেই এমন ঝড়ে আমের সম্ভাব্য উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শনিবার সারাদিন তীব্র গরমের পর সন্ধ্যায় কিছুটা বৃষ্টি হলেও রাত সোয়া ১২টার দিকে বজ্রপাতসহ ঝড়ের তীব্রতা বেড়ে যায়। এতে মুহূর্তের মধ্যে লন্ডভন্ড হয়ে যায় অনেক এলাকা। বাগানগুলোতে আমের গুটি ও ডাল ভেঙে পড়ায় আমচাষিরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের ঝাপটা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরো উপজেলা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। ইসরাইল মোড় ও সহড়াতলাসহ বেশ কিছু জায়গায় বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
শিবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ইসরাইল হোসেন জানান, রাত ১২টার দিকে প্রচণ্ড বেগে বাতাসের ঝাপটা আসার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যুৎ চলে যায় এবং পরে তারা জানতে পারেন বিভিন্ন এলাকায় নেসকোর খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আমচাষি ফরহাদ হোসেন বলেন, গাছের ডালে এখন আম ঝুলছে, কিন্তু ঝড়ে ডাল ভেঙে ও গাছ উপড়ে যাওয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যে মাঠ পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ শুরু করেছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির বিষয়ে শিবগঞ্জের নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী জুলফিকার আলী বলেন, ঝড়ে ৩৩ কেভির মেইন লাইনের কিছু খুঁটি ভেঙে যাওয়া ও হেলে পড়ার কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ আছে এবং তাদের কর্মীরা দ্রুত মেরামতের জন্য মাঠে কাজ করছেন।
অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির শিবগঞ্জ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, পুকুরিয়া ও ছত্রাজিতপুরসহ বেশ কিছু এলাকায় ৫টি খুঁটি ভেঙে গেছে। মেইন লাইনের কাজ চলায় সাময়িকভাবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও দ্রুতই গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী জানান, জেলায় গড়ে ১৭ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঝড়ের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮ থেকে ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে আসে। অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনে সময় লাগে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।